রাঙ্গুনিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলম গ্রেফতার, নেপথ্যে ডেভিলহান্ট অভিযান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলম গ্রেফতার, নেপথ্যে ডেভিলহান্ট অভিযান..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলম গ্রেফতার, নেপথ্যে ডেভিলহান্ট অভিযান..
রাঙ্গুনিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলম গ্রেফতার, নেপথ্যে ডেভিলহান্ট অভিযান..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সরকার ঘোষিত ডেভিলহান্ট অভিযানের অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের এক শীর্ষ নেতা ও অর্থদাতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।..

১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার মরিয়মনগর চৌমুহনী এলাকা থেকে মোহাম্মদ আলম (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র এবং স্থানীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। সরকার ঘোষিত চলমান বিশেষ ডেভিলহান্ট অভিযানের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই মো. জাকির হোসেন এবং সঙ্গীয় ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলম রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগঠনটির অন্যতম প্রধান অর্থদাতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলমের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় দায়েরকৃত ১২ নম্বর মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দণ্ডবিধির ৩০৪ এবং ৩৪ ধারায় দায়েরকৃত এই মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, অভিযুক্ত আলম দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এবং যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আড়ালে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতেন। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। মামলার নথিপত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সময় তার ভূমিকা এবং অপরাধের ধরণ অত্যন্ত গুরুতর, যা তাকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশের ভাষ্যমতে, ডেভিলহান্ট অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাথে জড়িত এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নকারী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলমকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার গ্রেফতার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মামলার এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে গ্রেফতারের জন্য তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল একজন নেতাকে গ্রেফতার করলেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না, বরং তার সাথে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক এবং অর্থায়নের উৎসের মূলোৎপাটন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ করার সাহস না পায়।

রাঙ্গুনিয়ার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই ধরনের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে রাঙ্গুনিয়ার স্থিতিশীলতা। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে পরিবহন খাত থেকে শুরু করে স্থানীয় জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে অস্থিতিশীলতা রোধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator