শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলা কারাগার ভেঙে পালানো ৮৭ পলাতক আসামির মধ্যে শ্যামনগর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট '২৬) রাতে পৃথক সময়ে পরিচালিত এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ গাজীর ছেলে মো. মোজাম গাজী (৪৯) এবং নওয়াবেকী গ্রামের তাবের গাজীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩৮) কে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগার ভেঙে মোট ৫৯৬ জন বন্দি পালিয়ে যায়। পরে পলাতক বন্দিদের কারাগারে ফিরে আসার জন্য দুই দিনের সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হলে ৫০৯ জন কারাগারে ফিরে আসে। বাকি ৮৭ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মোজাম গাজী একটি মামলায় আদালতের দেওয়া এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৬ লাখ টাকা জরিমানার সাজাপ্রাপ্ত। অপরদিকে, রফিকুল ইসলাম একটি মামলায় ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানার সাজাপ্রাপ্ত।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামনগর থানা পুলিশ পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের করা কারাগার ভাঙার মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এখনও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পলাতক ৩৯ আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে জেলার সংশ্লিষ্ট সব থানাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনা সাতক্ষীরা জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের উচিত দ্রুততার সাথে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
কারাগার ভাঙার এই ঘটনাটি দেশের কারাগার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলো তুলে ধরেছে। আইনজীবীরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজন তত্ত্বাবধানের উন্নতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।