শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার জেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিতীয় দিনে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
'দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সজেকা খুলনার আয়োজনে এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।
তিনি বলেন, 'যে দেশে নৈতিকতার চর্চা না থাকে, সে দেশে দুর্নীতির বিস্তার অধিক। ডাক্তারদের অফিস টাইমে ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করা কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস না করাও দুর্নীতি। এ ধরনের কার্যকলাপ দেশের উন্নতির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।' তিনি আরো বলেন, 'আমাদের নীতি-নৈতিকতার মান উন্নত করতে পারলে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে যাব। পৃথিবীর অনেক দেশ মেধার জোরে, যুক্তির জোরে এবং বিজ্ঞান মানসিকতার জোরে এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতেই হবে।'
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোঃ আবুল হোসেন।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক আশরাফ হোসেন, প্রভাষক পিয়া মন্ডল এবং প্রভাষক রুবেল হোসেন। বিতর্কের বিষয় ছিল 'ধর্মীয় অনুশাসন না মানার মানসিকতা দুর্নীতি বিস্তারের প্রধান কারণ।' এই বিতর্কে পক্ষে অংশ নেয় মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিপক্ষ দল হিসেবে অংশ নেয় শিমুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য প্রভাষক আব্দুল ওহাব আজাদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, সদস্য রেবেকা সুলতানা, মোঃ সাকিবুর রহমান, জিএম নাজমুল আরিফ, মোঃ শহীদুর রহমান ও মোঃ নাজমুল হক। প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনের প্রতিযোগিতায় জেলার ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এসময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত করা এবং তাদের নৈতিকতার মান উন্নয়নের প্রয়াস করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং একটি সৎ ও নৈতিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।