শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নিষিদ্ধ ও অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। এই অভিযানে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল জব্দ এবং জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট '২৬) বিকেলে উপজেলার মুন্সীগঞ্জ বাজারে এ অভিযান শুরু হয়। বাজারের মো. আব্দুল ওহাবের দোকানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল পাওয়া যায়, যা পরে জব্দ করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসেন এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসান। কর্মকর্তারা জানান, কারেন্ট জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এতে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী, ছোট মাছ ও মাছের পোনা ব্যাপকহারে আটকা পড়ে। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের জালের ব্যবহার মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফলে জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অভিযান শেষে মো. রাশেদ হাসান বলেন, "মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং প্রজনন মৌসুমে মাছের বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারেন্ট জালে শুধু বড় মাছ নয়, বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ, মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এর ফলে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।" তিনি আরও জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, বিক্রি ও মজুদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পরিবর্তে সরকার অনুমোদিত ও বৈধ জাল ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের চলমান অভিযানে স্থানীয় জনগণকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শ্যামনগরের নদী-খাল ও বিভিন্ন জলাশয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট মাছ ও পোনা নিধনের ফলে ভবিষ্যতে মাছের সংকট আরও বাড়তে পারে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে অবৈধ জালের ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নদী-খাল ও জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। এই ধরনের পদক্ষেপ এলাকায় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারকে সুরক্ষিত করবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।