৩৫ বছরেও সংস্কারহীন রাঙ্গুনিয়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্র: পরিত্যক্ত কক্ষে চলছে পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

৩৫ বছরেও সংস্কারহীন রাঙ্গুনিয়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্র: পরিত্যক্ত কক্ষে চলছে পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসা..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
৩৫ বছরেও সংস্কারহীন রাঙ্গুনিয়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্র: পরিত্যক্ত কক্ষে চলছে পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসা..
৩৫ বছরেও সংস্কারহীন রাঙ্গুনিয়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্র: পরিত্যক্ত কক্ষে চলছে পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসা..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৩৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে বর্তমানে একটি স্যাঁতসেঁতে কক্ষে চলছে পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের বাচাশাহ নগরে অবস্থিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় ধুঁকছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বা বরাদ্দ আসার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত কোনো সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে পোমরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি জরাজীর্ণ ও স্যাঁতসেঁতে ছোট কক্ষে ভিড় করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই কেন্দ্রটি এখন চিকিৎসাসেবার চেয়েও একটি পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে ঘরের রূপ ধারণ করেছে, যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ের পাশে অবস্থিত এই কেন্দ্রটিতে ন্যূনতম কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম বা আসবাবপত্রের অস্তিত্ব নেই। একটিমাত্র টেবিল ও ভাঙা চেয়ার দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব এবং চারদিকে লাকড়ির স্তূপের উপস্থিতি স্বাস্থ্যকর পরিবেশকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলমের ভাষ্যমতে, এই এলাকার দরিদ্র, হতদরিদ্র ও জেলেপাড়ার মানুষের একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি, কিন্তু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত হওয়ায় বর্ষাকালে এখানে আসা সাধারণ মানুষের জন্য রীতিমতো আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে। এছাড়া, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সুবিধার অভাবে রোগী ও চিকিৎসক উভয়েই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন একজন চিকিৎসক এখানে সেবা দিতে আসেন, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবন সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান চিকিৎসক জয়নাব জামিলা স্বীকার করেছেন যে, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকলেও এর সুনির্দিষ্ট ইতিহাস বা সংস্কারের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী দেবাশীষ বড়ুয়ার কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ছুটিতে থাকার অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়িয়েছেন এবং এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো অগ্রগতির তথ্য প্রদান করেননি। এদিকে, জেলা পরিষদের প্রকাশিত দরপত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশের জায়গাটি ‘পোমরা পোল্ট্রি ফার্ম’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নথিপত্রে এই জায়গার প্রকৃত অবস্থা বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এভাবে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এবং স্থানীয় মানুষকে মানবেতর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। অবিলম্বে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, শৌচাগার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারলে এই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবার এই করুণ অবস্থার অবসান ঘটাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পরিষদকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় এই জনপদ স্বাস্থ্যসেবার অধিকার থেকে চিরতরে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator