শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেট-এ যা ঘটছে: তথ্য-উপাত্তের কঠোর বিশ্লেষণ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেট-এ যা ঘটছে: তথ্য-উপাত্তের কঠোর বিশ্লেষণ

তানভীর আহমেদ  avatar   
তানভীর আহমেদ
শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেট-এ যা ঘটছে: তথ্য-উপাত্তের কঠোর বিশ্লেষণ
শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেট-এ যা ঘটছে: তথ্য-উপাত্তের কঠোর বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য লভ্যাংশ নীতি (dividend policy) কঠোরভাবে পালনের নির্দেশিকা ...

সম্প্রতি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) কর্তৃক তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য লভ্যাংশ নীতি (dividend policy) কঠোরভাবে পালনের নির্দেশিকা জারি এবং ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (DSE) ক্রমাগত লেনদেন হ্রাস একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা কেবল বিনিয়োগকারীদের আস্থা নয়, সামগ্রিক পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গত এক মাসে DSE-এর প্রধান সূচক DSEX প্রায় ৩০০ পয়েন্টের বেশি হারিয়েছে, যেখানে দৈনিক গড় লেনদেন নেমে এসেছে ৫০০ কোটি টাকার নিচে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এই পতনশীল প্রবণতা কেবল স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নয়, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়ে সরকারি সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানতের দিকে ঝুঁকতে প্রলুব্ধ করছে। এর ফলস্বরূপ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতও চাপের মুখে রয়েছে, যেখানে অনেক ফান্ড তাদের ইউনিট মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)-এর অবস্থাও প্রায় অভিন্ন, যেখানে লেনদেন ও বাজার মূলধন উভয়ই হ্রাস পাচ্ছে, যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ হিসেবে এর কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পুঁজিবাজারের এই মন্দার পেছনে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (CDBL)-এর মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের ধীরগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যদিও CDBL ইলেকট্রনিক মাধ্যমে শেয়ার সংরক্ষণ ও লেনদেন নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে, বাজারের গতিশীলতা ধরে রাখতে এর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং ত্রুটিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে, তারল্য সংকটের এই সময়ে, নতুন এবং মানসম্মত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (IPO) বাজারে আসছে না, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোও তাদের প্রকৃত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে, যা বাজারের অন্তর্নিহিত দুর্বলতাকে প্রকট করে তুলছে।

সূচক/বিষয় জানুয়ারি ২০২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মার্চ ২০২৪ এপ্রিল ২০২৪ (২৩ তারিখ পর্যন্ত)
DSEX (পয়েন্ট) ৬,৩৫২ ৬,২২৩ ৬,০৫০ ৫,৭৮৫
DSE গড় দৈনিক লেনদেন (কোটি টাকা) ৭৫০ ৬১০ ৫২০ ৪৫০
DSE বাজার মূলধন (লক্ষ কোটি টাকা) ৭.৮০ ৭.৬২ ৭.৪০ ৭.১০
বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (নেট প্রবাহ, কোটি টাকা) -১১০ -৮৫ -১৫০ -২০০

উৎস: DSE, BSEC এবং বিভিন্ন আর্থিক সংবাদমাধ্যম থেকে সংগৃহীত।

সুপারিশ

  • বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) কে দ্রুততার সাথে নতুন এবং মানসম্মত আইপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে এবং একই সাথে কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উপর নজরদারি বাড়াতে হবে।
  • ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE) কে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম প্রবর্তনের মাধ্যমে লেনদেন সহজীকরণ ও তারল্য বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, বিশেষ করে বন্ড মার্কেট এবং ডেরিভেটিভস বাজার চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
  • সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (CDBL) কে শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয় করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত তাদের কেনা শেয়ারের মালিকানা পান এবং বিক্রি করা শেয়ারের অর্থ সময়মতো ফেরত পান, যা বাজারের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

✍️ নিবন্ধ লেখক: তানভীর আহমেদ

তানভীর আহমেদ 'আই নিউজ বিডি'-র একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিষয়ভিত্তিক গবেষক। তাঁর বিশেষত্বের জায়গা: শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেট। এই নিবন্ধটি তাঁর নিজস্ব গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে সংকলিত।

Geen reacties gevonden


News Card Generator