সাতক্ষীরায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সহযোগীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাতক্ষীরায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সহযোগীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সহযোগীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর..
সাতক্ষীরায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সহযোগীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর..
ছবি: সংগৃহীত
জাইকার অর্থায়নে সাতক্ষীরায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগে জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগের মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক মো. সাইদুর রহমান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। কিন্তু ওই বছরের ২৪ মে থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা।

টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ১৪ এপ্রিল কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৩ মে বিষয়টি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। চেয়ারম্যানের নামে মামলা দিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না বলে ১৯ মে হুমকি দেওয়া হয় এবং চাঁদার পরিমাণ ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা ধার্য করা হয়। ২৩ মে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমান, সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও সবুজসহ কয়েকজন প্রকৌশলী জাহিদ হাসানের কাছে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। জাহিদ হাসানকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

২৫ মে মীরপুরের আর আর প্রতিষ্ঠানের আইন কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় চেয়ারম্যান নজরুল, তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও সবুজসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে বিচারপতি তাদের ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন এবং ১০ আগস্টের মধ্যে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে নির্দেশ দেন।

জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ও বিশ্বজিৎকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনায় প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ভীতি ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। চাঁদাবাজির এমন ঘটনা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator