শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট '২৬) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে এ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। একইসাথে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলায় জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়েছে।
মোঃ নজরুল ইসলাম, যিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর ফিংড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে এবং বর্তমানে শহরের সুলতানপুরের বাসিন্দা, তাকে গত ২৭ জুলাই ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরায় তাকে পাঁচটি পৃথক হত্যা মামলায় আসামি করা হয়।
এই মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরাতন সাতক্ষীরার আবির হাসানকে গুলি করে হত্যার ঘটনা। এ মামলায় তার চাচা মোনায়েম খান বাদী হয়ে আদালতের মাধ্যমে থানায় মামলা করেন। অন্য একটি মামলায় ২০২০ সালের ২৬ মার্চ ধুলিহরের অহিদুল ইসলামকে হত্যা করা হয়, যেখানে তার স্ত্রী পারুল বেগম বাদী হন। আরও একটি মামলায় ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০১৪ সালের ১৩ জুন ইসমাইল মোড়ল হত্যা এবং ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের হরতালে হাফিজুর রহমানকে হত্যার ঘটনায়ও মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ৫ আগস্ট সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা আবেদন জানান। তারপর ঢাকার কারাগার থেকে তাকে সাতক্ষীরা কারাগারে আনা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন এবং জামিন আবেদনগুলো নাকচ করেন।
মোঃ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এসব মামলার সাথে তার কোনো সংযোগ নেই এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পুলিশ উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম এবং আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট সাহেদসহ ২০ জন আইনজীবী।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর মোঃ নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হলেও আইন অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এ মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচার হলে এটি হবে দেশের আইনী ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সমাজ বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এ ধরনের মামলার সুষ্ঠু বিচার হলে রাজনৈতিক সহিংসতা কমবে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।