অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের কামালপুর মৃধাপাড়া এলাকার মহিল উদ্দিনের পালিত কন্যাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে মামলার প্রধান আসামি তজমল হক তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
গত ৪ জুলাই রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তজমল হকের বাড়ি থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর পালিত বাবা মহিল উদ্দিন বাদী হয়ে গত ৬ জুলাই বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬।
মামলা দায়েরের পর বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রধান আসামি তজমল হক ও সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত সুমনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা জামালপুর কারাগারে রয়েছেন। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা কুসুম ফুল আক্তার অভিযোগ করে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের পরিবারের লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তার কিশোরী মেয়েকে আবারও অপহরণ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
মামলার বাদী মহিল উদ্দিন বলেন, “ন্যায়বিচারের আশায় আমি থানায় মামলা করেছি। আমি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আসামিরা উপযুক্ত শাস্তি না পেলে সমাজে অপরাধ আরও বাড়বে।” তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, “মামলা দায়েরের পরপরই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারটি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কথিত হুমকি ও চাপের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে