একটি সড়ক দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না: জীবনযুদ্ধে লড়ছেন যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

একটি সড়ক দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না: জীবনযুদ্ধে লড়ছেন যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান..

এস এম তাজুল হাসান সাদ avatar   
এস এম তাজুল হাসান সাদ
একটি সড়ক দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না: জীবনযুদ্ধে লড়ছেন যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান..
একটি সড়ক দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না: জীবনযুদ্ধে লড়ছেন যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান..
ছবি: সংগৃহীত
****

একটি সড়ক দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না: জীবনযুদ্ধে লড়ছেন যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

একটি দুর্ঘটনা কখনো কখনো শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পুরো পরিবারকে অসহায়ত্বের অন্ধকারে ঠেলে দেয়। কিছু দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনা আজ তেমনই এক করুণ বাস্তবতার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা, মৃত আব্দুল হক সরদারের ছেলে, মো. হাফিজুর রহমানের জীবনে।

 

যে মানুষটি পরিবার, সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছিলেন, আজ তিনি হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন তীব্র যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। তার চোখে এখন একটাই প্রশ্ন আবার কি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন?

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি মামলার কাজে সাতক্ষীরা শহরে গিয়েছিলেন হাফিজুর রহমান। কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে আশাশুনি উপজেলার মহেশ্বরকাটি এলাকার মাছের ঘের সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই ছিটকে পড়েন তিনি।

 

সৌভাগ্যবশত মাথায় হেলমেট থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু সেই বেঁচে থাকাটাই যেন এখন আরেক দীর্ঘ কষ্টের নাম। দুর্ঘটনায় মুখমণ্ডলে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত লাগে দুই পায়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, রক্ত জমাট বেঁধে বাম পায়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তার বাম পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বর্তমানে তিনি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসা ব্যয়ে প্রায় চার লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু সামনে রয়েছে আরও দীর্ঘ চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন ও ওষুধের ব্যয়। দিনমজুর নয়, আবার বিত্তবানও নয় এমন একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই বিপুল ব্যয় বহন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

হাসপাতালের বেডের পাশে বসে পরিবারের সদস্যরা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “আমরা শুধু চাই, সে বেঁচে থাকুক। আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। কিন্তু চিকিৎসার খরচ আমাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। এখন সমাজের মানবিক মানুষদের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।

 

পরিবার আরও জানায়, হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ আজ একটি দুর্ঘটনা তার জীবনকে থামিয়ে দিয়েছে হাসপাতালের বিছানায়।

 

এ অবস্থায় হাফিজুর রহমানের পরিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।

 

পরিবারের আকুতি একজন সংগ্রামী মানুষকে যেন অকালে হারিয়ে যেতে না হয়। একটি দুর্ঘটনা যেন তার স্বপ্ন, তার পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং তার বেঁচে থাকার আশা কেড়ে নিতে না পারে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator