বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটি 'টুলস' বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রিজভীর মতে, যে দেশটি বাংলাদেশকে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে, সেই দেশই এই ধরনের পদক্ষেপকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
গতকাল (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে রিজভী আহমেদ এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নত করার চেষ্টা করছে। তবে, সরকারের এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। রিজভী আরও অভিযোগ করেন যে, সরকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে, যার মধ্যে এই ধরনের সংবাদ সম্মেলন অন্যতম।
রিজভী আহমেদের মতে, ভারতের মতো একটি দেশ, যারা নিজেদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দাবিদার, তাদের উচিত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা। কিন্তু তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত কীভাবে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে?
বিএনপি নেতা আরও বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, তা কেবলই কথার কথা। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য। রিজভী জোর দিয়ে বলেন যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পারে বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের প্রভাব বিস্তার না করে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সোর্স: www.jugantor.com