বাগেরহাট জেলার মোংলায় বুধবার সকাল ১০টায় ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী আয়োজন করে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ। মোংলা পৌর শহরের শ্রমিক সংঘ চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মিছিলটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। স্থানীয় এলাকাসমূহ থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে এবং শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশবাসীকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও সাম্যবাদী বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্যে সমাজের সব স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পুরো কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আনে এবং গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকারের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। মোংলায় এ ধরনের আয়োজন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা প্রেরণ করে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও লক্ষ্য তুলে ধরতে সক্ষম হয় এবং সাধারণ জনগণের সমর্থন লাভ করে। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।