রাঙ্গুনিয়ায় মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা: ইভটিজিং অভিযোগ ও রাজনৈতিক হতাশা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ায় মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা: ইভটিজিং অভিযোগ ও রাজনৈতিক হতাশা..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা: ইভটিজিং অভিযোগ ও রাজনৈতিক হতাশা..
রাঙ্গুনিয়ায় মানসিক চাপে যুবকের আত্মহত্যা: ইভটিজিং অভিযোগ ও রাজনৈতিক হতাশা..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইভটিজিং অভিযোগ ও মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ ইমন (২২) নামের এক যুবক নিজের কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। ইমনের পিতা জহির আহমদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই উত্তর পোমরা মালিহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীর মা রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুলাই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিম উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমন একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

ইমনের আত্মহত্যার আগে তার ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ এই নারী ও তার পরিবার।” তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ইমন পোমরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একটি পদ পেয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে ২০২৪ সালে পারিবারিক ও রাজনৈতিক হতাশা থেকে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। সেই সময় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। 

স্থানীয়দের ধারণা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ইভটিজিং সংক্রান্ত অভিযোগ, সালিশ বৈঠকের চাপ এবং রাজনৈতিক হতাশা—সব মিলিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। 

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইমনের বিরুদ্ধে ১৫ জুলাই একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তার মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক এবং মানসিক চাপের কারণে যুবকদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। ইমন যদি মানসিক সমস্যার সমাধানে সাহায্য পেত, তবে হয়তো তার জীবন বাঁচানো যেত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। 

ইভটিজিং এবং এর প্রভাব নিয়ে সমাজে সচেতনতা এবং শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত কর্মশালা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। একইসাথে, রাজনৈতিক চাপ এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতাগুলি যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator