ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে যুবকের মৃত্যু, এলাকাজুড়ে শোক
মোঃ আসাদুজ্জামান
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার নাকাটি টাঙ্গন সেতু সংলগ্ন টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে নেমে রিপন (২০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রিপন তার সাত বন্ধুসহ মোট আটজন টাঙ্গন নদীর ধারে গোসল করতে যান। গোসলের একপর্যায়ে রিপন হঠাৎ নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে তারা তীরে উঠে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি চালান, তবে প্রথমদিকে তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিহত রিপন উপজেলার আকাশিল গ্রামের মো. ফয়জুল ইসলামের ছেলে। পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র ছেলে। এসএসসি পাস করার পর তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। গত ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে আর ঢাকায় ফিরে যাননি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার তার আবার ঢাকায় কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়ার আগের দিন বন্ধুদের সঙ্গে গোসল খেলাধুলা করতে গিয়েই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আট বন্ধুর কেউই ভালোভাবে সাঁতার জানতেন না। রিপন নদীর ধারে ছিল,গোসল করতে গভীর পানিতে তলিয়ে গেলে অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে তীরে উঠে সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় রংপুর থেকে ডুবুরি দলের সদস্যদের আনা হয়। বালু খননের জন্য গভীর গর্তে অনুসন্ধান চালালে ও পরে তাদের দীর্ঘ ৩ ঘন্টার অভিযানে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নদী থেকে রিপনের মরদেহ নদীর ধারের কাছেই উদ্ধার করা হয়।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে টাঙ্গন নদীর তলদেশে বিভিন্ন স্থানে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। রিপন সেই গভীর খাদেই তলিয়ে যেতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
রিপনের অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
একই সঙ্গে এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল গঠন, টাঙ্গন নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।