শরীফ ওসমান হাদিকে ঘিরে ২৩০ দিনের বিচারহীনতা: আন্দোলনের সামনের সারির এক নেতার জীবন ও সংগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শরীফ ওসমান বিন হাদি, যিনি ওসমান হাদি নামে অধিক পরিচিত, ছিলেন একজন শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। তিনি "ইনকিলাব মঞ্চ"-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ‘ইনসাফ কায়েম’ ও ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার বক্তৃতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক অবস্থান দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ওসমান হাদি ঢাকার রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সমন্বয়কারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সংগঠকদের মধ্যে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি দ্রুত আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।
বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যখন তিনি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রা করছিলেন।
ঘটনার পর তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের নিউরোসার্জিক্যাল ইউনিটে তার চিকিৎসা চলে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির আঘাতে তার মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
২৩৩ দিনেও বিচারহীনতার অভিযোগ
ওসমান হাদির ওপর হামলার ২৩৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো ঘটনার বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় তার পরিবার, সহকর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং হামলার প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা হোক।
ওসমান হাদিকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এখনো তার স্মরণে কর্মসূচি পালন করছে এবং হামলার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে!
বিচার হীনতার ২৩০ দিন | আই নিউজ বিডি
کوئی تبصرہ نہیں ملا