বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় মুয়াজ্জিনকে জুতাপেটা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় মুয়াজ্জিনকে জুতাপেটা

জাহিদ হাসান  avatar   
জাহিদ হাসান
বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় মুয়াজ্জিনকে জুতাপেটা
বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় মুয়াজ্জিনকে জুতাপেটা
ছবি: সংগৃহীত
 নাটোরের বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ায় এক মুয়াজ্জিনকে গ্রাম্য সালিশে ৫০টি জুতার বাড়ি ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-যুবদল নেতাকর্মীদের..

 নাটোরের বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ায় এক মুয়াজ্জিনকে গ্রাম্য সালিশে ৫০টি জুতার বাড়ি ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের ভান্ডারদহ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুধুমাত্র বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে এমন শাস্তিতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন ওই মুয়াজ্জিন। ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিনের নাম আবুল কালাম আজাদ। তিনি ভান্ডারদহ গ্রামে গ্রামের মৃত আকবর আলী প্রামাণিকের ছেলে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ ভান্ডারদহ মধ্যপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আসরের নামাজের পরে মক্তবে শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিতেন। কয়েকদিন আগে তিনি মক্তবে পড়তে আসা এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় চান্দাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য কাজী মাহবুব হোসেন মাসুদ ও ভান্ডারদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুলাল, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মী রোববার সন্ধ্যায় গ্রাম্য সালিশ বসান। সেখানে শুনানী শেষে ওই মুয়াজ্জিন আবুল কালাম আজাদকে ৫০ টি জুতার বাড়ি ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানার করা হয়। পরে টাকা পরিশোধের জন্য ১০ দিন সময় দিলেও সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে জুতাপেটা করা হয়। এতে লোকলজ্জায় তিনি গত তিনদিন যাবৎ বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। মুয়াজ্জিন আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি মাত্র। মেয়েকে কোন কপ্রস্তাব বা খারাপ আচরণতো করিনি। এইটুকু কারণে তারা এভাবে ভরা মজলিশে আমাকে জুতাপেটা করবে এটা ভাবতে পারিনি। এখন মানুষের সামনে আমি মুখ দেখাবো কি করে। যুবদল নেতা কাজী মাহবুব হোসেন মাসুদ বলেন, সালিশের রায়ে ৫০ টি জুতার বাড়ির কথা বলা হলেও ৮-১০টির বেশি দেয়া হয়নি। আর মেয়ের অভিভাবককে দেয়ার জন্য ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভান্ডারদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, সেখানে আমি উপস্থিত থেকে কথাবার্তা শুনেছি। তবে রায় দেয়া বা কার্য্যকরের সাথে আমার কোন অংশগ্রহণ ছিল না। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator