রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা প্রকৌশলী ইউনুস শেখের ঘোষণা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা প্রকৌশলী ইউনুস শেখের ঘোষণা..

Md Anisur Rahman avatar   
Md Anisur Rahman
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা প্রকৌশলী ইউনুস শেখের ঘোষণা..
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা প্রকৌশলী ইউনুস শেখের ঘোষণা..
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা প্রকৌশলী মোঃ ইউনু..

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারির সংগঠক ও বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মোঃ ইউনুস শেখ। গত ২৪ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথের সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ প্রকৌশলী এখন স্থানীয় রাজনীতির মূলধারায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রামপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিনি আসন্ন নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন। তার এই ঘোষণা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যারা প্রচলিত রাজনীতির বাইরে স্বচ্ছ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন ও জনসেবার রূপরেখা নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা এই অঞ্চলের আসন্ন নির্বাচনকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ ভোটারদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইউনুস শেখের এই প্রার্থীতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দশকে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবার নামে হয়রানি, স্বজনপ্রীতি ও উন্নয়নের নামে অর্থ আত্মসাতের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা থেকে পরিত্রাণ চায় সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি সেবা পাওয়ার জন্য এখন তাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়, যা একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য অসহনীয়। প্রকৌশলী ইউনুস শেখের নির্বাচনী ইশতেহারে এই সমস্যাগুলোর সমাধানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক সেবা পৌঁছে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেছেন, জনগণের ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতাই তার মূল চালিকাশক্তি। তিনি মনে করেন, একটি উন্নত ও সুশৃঙ্খল ইউনিয়ন গঠনে জনপ্রতিনিধিদের পেশাদারিত্ব এবং সততার কোনো বিকল্প নেই, যা তিনি তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বাস্তবায়ন করতে চান। তার এই দৃঢ় অবস্থান স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং তারা এখন এমন একজন নেতৃত্ব খুঁজছেন যিনি কোনো দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউনুস শেখের এই ঘোষণার বিপরীতে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহল সতর্ক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। একদিকে যেমন তারুণ্যের শক্তিতে উজ্জীবিত ভোটাররা তাকে সমর্থন যোগাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব কৌশল সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রার্থীদের আচরণবিধি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইউনুস শেখের দাবি, তিনি কেবল নির্বাচনে জেতার জন্য নয়, বরং রামপুর ইউনিয়নের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামাজিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তার এই রাজনৈতিক অভিযাত্রা স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং সেবার মানোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। স্থানীয় জনপদকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা বাস্তবায়নে স্থানীয় সচেতন মহলের নজরদারি ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আসন্ন এই নির্বাচন কেবল একজন চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং রামপুর ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকৌশলী ইউনুস শেখের মতো শিক্ষিত ও সংগ্রামী নেতৃত্বের আবির্ভাব স্থানীয় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার এই নির্বাচনী উদ্যোগ সফল হলে তা অন্যান্য ইউনিয়নের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে তিনি যেন একজন জনবান্ধব অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন। ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি কতটা সফল হন, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচনের ফলাফল। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের নেতৃত্বের উত্থান স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অভিমত ব্যক্ত করছেন।

没有找到评论


News Card Generator