কেরানীগঞ্জের দুই বিদ্যালয়ে উদ্ভাবনের আলো: জেনারেশন আলফার হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কেরানীগঞ্জের দুই বিদ্যালয়ে উদ্ভাবনের আলো: জেনারেশন আলফার হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশ..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
কেরানীগঞ্জের দুই বিদ্যালয়ে উদ্ভাবনের আলো: জেনারেশন আলফার হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশ..
কেরানীগঞ্জের দুই বিদ্যালয়ে উদ্ভাবনের আলো: জেনারেশন আলফার হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশ..
ছবি: সংগৃহীত
কেরানীগঞ্জের হযরতপুর উচ্চবিদ্যালয় ও রোহিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনীর ঘটনা নয়। এটি আগামীর বাংলাদেশের একটি প্রতীক।..

- সালাউদ্দিন আকবর, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

কেরানীগঞ্জের দুইটি বিদ্যালয়ে সম্প্রতি দেখা গেল এক অনন্য দৃশ্য। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে প্রয়োগ করে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে শিক্ষার্থীরা। একদিকে হযরতপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মডেল প্রদর্শন করেছে, অন্যদিকে রোহিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা উপস্থাপন করে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে।

বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যখন বড় চ্যালেঞ্জ, তখন কিশোর শিক্ষার্থীদের এমন চিন্তাশীল উদ্যোগ শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের এক ঝলকও বটে। প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে পাইরোলাইসিস প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেল উৎপাদনের ধারণা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণা ও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ হয়েছে। 

স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, এসব প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অর্জন কেবল প্রযুক্তিগত ফলাফল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করা, সমাধান খোঁজা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার চর্চা। কারণ আগামী পৃথিবীতে তথ্য মুখস্থ করার চেয়ে নতুন ধারণা সৃষ্টি করার ক্ষমতাই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।

এ নিয়ে ঢাকা -২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান  বলেছেন এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ অবশ্যই অনুপ্রেরণার উৎস ।

শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন এবং বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করতে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রেরণা স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে অনেক কাজই সহজ ও স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সৃজনশীলতা, কৌতূহল এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের মানসিকতা কখনো শর্টকাটে অর্জন করা যায় না। বরং এআই এবং মানব মেধার সমন্বয়ই আগামী বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।

কেরানীগঞ্জের এই দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন সেই ভবিষ্যতেরই বার্তা দিচ্ছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে, প্রযুক্তি কেবল ব্যবহার করার বিষয় নয়, প্রযুক্তি সৃষ্টি করাও সম্ভব। তাদের হাতে তৈরি ছোট ছোট প্রকল্পগুলো হয়তো আজ প্রদর্শনীর টেবিলে সীমাবদ্ধ, কিন্তু আগামী দিনে সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা টেকসই জ্বালানি প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।

একসময় যে প্রজন্মকে শুধু মোবাইল আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারী হিসেবে দেখা হতো, সেই জেনারেশন আলফাই এখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন ভাষা লিখছে। তাদের কৌতূহলী চোখে ধরা পড়ছে পরিবেশের সমস্যা, আর তাদের সৃজনশীল চিন্তায় খোঁজা হচ্ছে সমাধান।

কেরানীগঞ্জের হযরতপুর উচ্চবিদ্যালয় ও রোহিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনীর ঘটনা নয়। এটি আগামীর বাংলাদেশের একটি প্রতীক, যেখানে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ থেকে উঠে আসবে নতুন বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিনেতা। আর সেই স্বপ্নের হাতছানি আজ শুধু কেরানীগঞ্জ নয়, পুরো পৃথিবীকেই নতুন করে ভাবতে আহ্বান জানাচ্ছে।

Nessun commento trovato


News Card Generator