দুয়ারে দুয়ারে স্বস্তির বার্তা: কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের শেষ যাচাই, হাসি ফুটছে নিম্নআয়ের মানুষের মুখে.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দুয়ারে দুয়ারে স্বস্তির বার্তা: কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের শেষ যাচাই, হাসি ফুটছে নিম্নআয়ের মানুষের মুখে..

Salauddin Akbar avatar   
Salauddin Akbar
দুয়ারে দুয়ারে স্বস্তির বার্তা: কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের শেষ যাচাই, হাসি ফুটছে নিম্নআয়ের মানুষের মুখে..
দুয়ারে দুয়ারে স্বস্তির বার্তা: কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের শেষ যাচাই, হাসি ফুটছে নিম্নআয়ের মানুষের মুখে..
ছবি: সংগৃহীত
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, “যাদের সত্যিকার অর্থে এই সহায়তা প্রয়োজন, তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি।..

- সালাউদ্দিন আকবর , কেরানীগঞ্জ 

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবতার মাটিতে নামানোর পথে আরেক ধাপ এগোলো সরকার। কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত পরিবারের স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ে চলছে সামাজিক নিরীক্ষা (সোশ্যাল অডিট)। পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন বিভাগীয় যুগ্মসচিব আয়েশা আক্তার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই উপকারভোগীরা হাতে পাবেন প্রথম মাসের ২ হাজার ৫০০ টাকা।

দেশের ১৯টি উপজেলার ১৯টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া তৃতীয় ধাপের এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এখানে তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৫০৯টি এবং রোহিতপুর ইউনিয়নের ৭৭০টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে, চলছে শেষ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই।

সরেজমিনে তেঘরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং রোহিতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও পুনঃযাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের মতে, এলাকাগুলোতে নিম্নআয়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২৭৯টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচিত পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ তথ্য গোপন করেছেন কি না কিংবা কোনো সচ্ছল পরিবার ভুলবশত তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই চলছে এই চূড়ান্ত সামাজিক নিরীক্ষা।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারের প্রধান নারী সদস্যদের কাছ থেকে নাম, ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি অন্যান্য সহায়তা গ্রহণের বিষয়সহ মোট ৪৭টি প্রশ্নের উত্তর নেওয়া হয়েছে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার নম্বরের মধ্যে যাদের প্রাপ্ত স্কোর ৭৭৭ থেকে ৮১৪-এর মধ্যে, তাদের দরিদ্র ও অতিদরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেবল তারাই এই কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহের পর প্রতিটি আবেদন পুনরায় যাচাই করছে উপজেলা সমাজসেবা অফিস।

এদিকে প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা।

রোহিতপুরের মাজেদা বেগমের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতি মাসে ওষুধের খরচ জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। এই সহায়তা পেলে অন্তত চিকিৎসার ব্যয় কিছুটা সামাল দিতে পারব।”

তেঘরিয়ার ঋষিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লতা রানী বলেন, “আমি বিধবা। দুই সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন চালাই। অন্যের বাসায় কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে, মেরামত করার সামর্থ্য নেই। এই সহায়তা পেলে অনেক উপকার হবে।”

একই এলাকার উমা রানী জানান, তার স্বামী প্রতিবন্ধী। সংসারের পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে। “দ্রব্যমূল্যের বাজারে ঠিকমতো খেতেই কষ্ট হয়। কিছুদিন আগে তথ্য নিয়েছিল, বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে বলেছিল। এত দ্রুত সহায়তা পাবো ভাবিনি,” বলেন তিনি।

উপকারভোগী জোহরা বেগমের কণ্ঠেও ছিল বিস্ময় আর স্বস্তির মিশেল। তিনি বলেন, “প্রথমে বিশ্বাসই করিনি যে সত্যি কার্ড পাবো। অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে খুব কমই দেখি। এবার সেটা বাস্তব হতে যাচ্ছে।”

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, “যাদের সত্যিকার অর্থে এই সহায়তা প্রয়োজন, তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি। প্রায় ২ হাজার ৭০০ পরিবারের তথ্য যাচাই করে ১ হাজার ২৭৯টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের নাম এবার অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ভবিষ্যতে তাদেরও সুযোগ থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই সুবিধাভোগীরা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।”

দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষার নতুন এই উদ্যোগ কেরানীগঞ্জের অসংখ্য নিম্নআয়ের পরিবারের জীবনে স্বস্তির পরশ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা শুধু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং প্রতিশ্রুত সহায়তার অর্থ হাতে পাওয়ার।

Tidak ada komentar yang ditemukan


News Card Generator