১২ বছরের খরা কাটিয়ে ডেভেলপমেন্ট কাপের শিরোপা জয় বরিশালের, নেপথ্যে কোচ জামিলের মাস্টারপ্ল্যান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

১২ বছরের খরা কাটিয়ে ডেভেলপমেন্ট কাপের শিরোপা জয় বরিশালের, নেপথ্যে কোচ জামিলের মাস্টারপ্ল্যান..

আব্দুল্লাহ আল হাসিব  avatar   
আব্দুল্লাহ আল হাসিব
১২ বছরের খরা কাটিয়ে ডেভেলপমেন্ট কাপের শিরোপা জয় বরিশালের, নেপথ্যে কোচ জামিলের মাস্টারপ্ল্যান..
১২ বছরের খরা কাটিয়ে ডেভেলপমেন্ট কাপের শিরোপা জয় বরিশালের, নেপথ্যে কোচ জামিলের মাস্টারপ্ল্যান..
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডেভেলপমেন্ট কাপ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করেছে বরিশাল বিভাগীয় দল, যার নেপথ্যে ছিল কোচ আব্দুর রউফ জামিলের সুনিপুণ কৌশল ও নেতৃত্ব।..

দীর্ঘ এক যুগ পর ডেভেলপমেন্ট কাপ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলেছে বরিশাল বিভাগ, যা দক্ষিণাঞ্চলের ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন জাগরণের বার্তা নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত লড়াইয়ে বরিশাল বিভাগ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর বিভাগের মুখোমুখি হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই বরিশাল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে এবং ৪১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেয়। কোচ আব্দুর রউফ জামিলের সুপরিকল্পিত ট্যাকটিকস এবং তরুণ ফুটবলারদের মাঠের লড়াইয়ে অদম্য মনোবাসনা এই ঐতিহাসিক জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছে। এই জয় কেবল একটি টুর্নামেন্ট জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে বরিশালের ফুটবলীয় কাঠামোয় যে স্থবিরতা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে রংপুরের ধারাবাহিক আক্রমণে বরিশালের রক্ষণভাগ যখন প্রবল চাপের মুখে পড়ে, তখন কোচ আব্দুর রউফ জামিলের রক্ষণাত্মক কৌশলের পরিবর্তন ম্যাচটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার চেয়ে দলীয় সংহতি এবং কোচ প্রদত্ত নির্দেশনার সঠিক প্রয়োগই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়। ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় কোচ জামিল জানান, খেলোয়াড়দের ওপর অর্পিত দায়িত্ব এবং তাদের শতভাগ নিবেদনের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। অতীতে রংপুর বিভাগের কাছে হারের যে আক্ষেপ ছিল, তা এবার ঘুচিয়ে দিতে পেরে খেলোয়াড়রা দারুণ মানসিকভাবে চাঙ্গা ছিল। মাঠের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায়, রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ পর্যন্ত প্রতিটি পজিশনে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে বোঝাপড়া ছিল, তা দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণেরই ফসল।

খেলোয়াড়ি জীবনে শান্তিনগর, বিজেএমসি, আজাদ স্পোর্টিং এবং খুলনা মোহামেডানের মতো স্বনামধন্য ক্লাবে খেলার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা আব্দুর রউফ জামিলের কোচিং দর্শনকে করেছে আরও সুসংহত। তিনি কেবল কৌশলই শেখাননি, বরং তরুণ ফুটবলারদের মাঝে আত্মবিশ্বাস সঞ্চারের কাজটিও করেছেন নিপুণভাবে। বাফুফে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই কোচের অধীনে এর আগেও বিভিন্ন ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও, বরিশালকে এভাবে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন করা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক পরিকল্পনাকারী এবং অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক থাকলে যে কোনো অঞ্চল থেকেই জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব, যা জামিলের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে।

এই শিরোপা জয় বরিশালের ফুটবলে নতুন করে বিনিয়োগ ও প্রতিভা অন্বেষণের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই তরুণ ফুটবলারদের সঠিক পরিচর্যা এবং নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা জাতীয় দলের পাইপলাইনে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। ১২ বছর পর আসা এই সাফল্য কেবল ট্রফি জয়ের আনন্দ নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ফুটবলীয় সংস্কৃতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রচেষ্টা। ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, আব্দুর রউফ জামিলের এই মাস্টারপ্ল্যান ও নেতৃত্ব ভবিষ্যতে বরিশাল বিভাগকে দেশের ফুটবল মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে এবং তৃণমূল ফুটবলে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator