গত ১ মে ২০২৬ তারিখে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নে জ্ঞানের আলো প্রসারের লক্ষ্যে ‘জ্ঞানের উৎস পাঠাগার’-এর শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশকে ত্বরান্বিত করার মূল লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ কুমার ঘোষ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেদী হাসান ফাহিম। পাঠাগারটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে অত্র অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও পাঠকদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলো। শালুয়াকান্দা গুজিরকোনা দুর্গাপুর নেত্রকোনার ‘লাল মিয়া স্মৃতি গণপাঠাগার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও লাইব্রেরিয়ান হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিবর্গের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং মো. রুমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এই পাঠাগারটি মূলত স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের পাশাপাশি বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা।
পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা যে বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দুর্গম এলাকায় মানসম্মত পাঠ্যবই ও গবেষণামূলক তথ্যের অভাব ছিল প্রকট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকাবাসী এবং পাঠকদের মতে, একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ছাড়া আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন যে, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগেও পাঠ্যবইয়ের বাইরে সৃজনশীল বই পড়ার সুযোগ না থাকায় তারা মেধা বিকাশে পিছিয়ে পড়ছিলেন। লাল মিয়া স্মৃতি গণপাঠাগারের অভিজ্ঞ লাইব্রেরিয়ানরা এই নতুন পাঠাগারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বই সংগ্রহ ও সদস্যপদ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয়দের বই পড়ার আগ্রহকে আরও সুসংহত করবে। পাঠাগারটির পরিচালনাকারী মো. রুমান জানিয়েছেন যে, পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এখানে বিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য ও সমসাময়িক বিষয়ের বইয়ের সংগ্রহ বাড়ানো হবে।
সংশ্লিষ্ট আয়োজক ও স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পাঠাগারটি কেবল বই পড়ার স্থান হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় মেধাবীদের একটি মিলনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসনের ভূমিকা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে লাইব্রেরির বিকল্প নেই। যদিও সরকারি পর্যায়ে পাঠাগার তৈরির সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ‘জ্ঞানের উৎস পাঠাগার’ দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা আশ্বস্ত করেছেন যে, পাঠাগারটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত নতুন বই সরবরাহের ক্ষেত্রে তারা স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন। আগামী দিনগুলোতে এই পাঠাগারে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র এবং সৃজনশীল কর্মশালার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তরুণরা গঠনমূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে পারে।
পরিশেষে, দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নে এই পাঠাগারের প্রতিষ্ঠা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি পাঠাগার নয়, বরং একটি নীরব বিপ্লবের সূচনালগ্ন, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভিত্তি তৈরি করবে। যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও তথ্যের সহজলভ্যতার অভাবে যারা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন, তারা এখন ঘরের কাছেই বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এই উদ্যোগটি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা নেত্রকোনার পুরো জেলায় একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতেও একই ধরনের পাঠাগার স্থাপনে স্থানীয়দের অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।