গোলাপগঞ্জের যানজট নিরসনে ৬০০ মিটারের মেগা ফ্লাইওভার: যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গোলাপগঞ্জের যানজট নিরসনে ৬০০ মিটারের মেগা ফ্লাইওভার: যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত..

SHAHED AHMED RIPON avatar   
SHAHED AHMED RIPON
গোলাপগঞ্জের যানজট নিরসনে ৬০০ মিটারের মেগা ফ্লাইওভার: যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত..
গোলাপগঞ্জের যানজট নিরসনে ৬০০ মিটারের মেগা ফ্লাইওভার: যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত..
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে নির্মিত হতে যাচ্ছে ৬০০ মিটারের দীর্ঘ ফ্লাইওভার, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।..

সিলেট অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় গোলাপগঞ্জ পৌরশহরের যানজট নিরসনে কদম গাছ পয়েন্ট থেকে দাঁড়িপতন পয়েন্ট পর্যন্ত ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। মূলত সিলেট থেকে গোলাপগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ফ্লাইওভারটি নির্মিত হচ্ছে, যেখানে মূল চার লেনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুই পাশে দুটি আলাদা সার্ভিস লেন যুক্ত থাকবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সিলেট ও সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচলের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সিলেট থেকে জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারগামী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসারে একটি নিরবচ্ছিন্ন করিডোর নিশ্চিত করা।

গোলাপগঞ্জ পৌরশহর ও এর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এই ফ্লাইওভার নির্মাণ একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণের মতো। বছরের পর বছর ধরে পৌরশহরের মূল পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মতে, বর্তমানে কদম গাছ পয়েন্ট থেকে দাঁড়িপতন পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কটিতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও অপরিকল্পিত পার্কিংয়ের কারণে চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হয়। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের ব্যবসার প্রধান অন্তরায় ছিল এই যানজট, পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসগুলো শহরে ঢুকলে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। ফ্লাইওভার নির্মিত হলে শহরের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী দূরপাল্লার যানবাহনগুলো সরাসরি মূল সড়ক দিয়ে চলে যেতে পারবে, ফলে স্থানীয় যানজট কমে আসবে এবং জনদুর্ভোগ অনেকাংশেই হ্রাস পাবে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে এবং দ্রুতই তা সম্পন্ন করে মাঠপর্যায়ে মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দাবি, ফ্লাইওভারের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে গোলাপগঞ্জ পৌরশহরের স্বাভাবিক নাগরিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। যদিও নির্মাণ চলাকালীন সাময়িক কিছু ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফলের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিকল্প ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকির দাবি জানানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা শৈথিল্য কাজের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে।

এই ৬০০ মিটারের ফ্লাইওভারটি কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি সিলেট অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট ও বিয়ানীবাজারের মধ্যে যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে, যা সাধারণ মানুষের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করবে। এছাড়া স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আসার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের যানজট থেকে মুক্তি পাওয়ার এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে গোলাপগঞ্জ পৌরশহর একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তন ভবিষ্যতে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।

Geen reacties gevonden


News Card Generator