সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিয়োগ নিয়ে বিএনপিতে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিয়োগ নিয়ে বিএনপিতে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক..

Juwel Hossain avatar   
Juwel Hossain
সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিয়োগ নিয়ে বিএনপিতে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক..
সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসকের নিয়োগ নিয়ে বিএনপিতে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক..
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে অখ্যাত সাইফুল ইসলাম শাহীনকে নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।..

গত ৪ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে সাইফুল ইসলাম শাহীনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম শাহীনকে জেলা বিএনপির রাজনীতির মাঠে কার্যত অপরিচিত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমেদের স্বাক্ষরিত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মূলত দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা বা কোনো রাজনৈতিক মামলার আসামি না হওয়া সত্ত্বেও এমন একজন ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানোয় দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও তৃণমূলের মধ্যে বড় ধরনের বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই নিয়োগের প্রক্রিয়া ও মানদণ্ড নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জেলা বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্যমতে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা বছরের পর বছর জেল খেটেছেন এবং কয়েক ডজন মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের উপেক্ষা করে একজন অখ্যাত ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া দলের ত্যাগী কর্মীদের জন্য অপমানজনক।

উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন স্বীকার করেছেন যে, সাইফুল ইসলাম শাহীন মূলত গার্মেন্টস খাতের পেশাদার হিসেবে পরিচিত এবং রাজনীতিতে তার ব্যাকগ্রাউন্ড নগণ্য। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অভিযোগ করছেন, যারা দুর্দিনে দলের পাশে ছিলেন তাদের মূল্যায়ন না করে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের ওপর ভরসা করায় দলের আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়োগের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অনেকে, যেখানে আব্দুল সামাদ সায়েমের মতো কর্মীরা একে দলের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনীতিতে মেধা ও ত্যাগের চেয়ে অর্থের প্রভাব বড় হয়ে ওঠায় তৃণমূলের কর্মীরা চরম হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন।

নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক অস্বস্তি বিরাজ করছে। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান এবং সহ-সভাপতি অমর কৃষ্ণ দাসের মতো নেতারা খোলাখুলিভাবে জানিয়েছেন যে, সাইফুল ইসলাম শাহীনকে তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনো দেখেননি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এই নিয়োগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও, জেলা সভাপতি রুমানা মাহমুদ দাবি করেছেন যে, শাহীন পর্দার আড়ালে থেকে আন্দোলনে অর্থের যোগান দিতেন।

তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ কোনো ধরনের রাজনৈতিক ত্যাগের নজিরবিহীন ব্যক্তিকে এমন উচ্চপদে আসীন করা স্বচ্ছ রাজনীতির পরিপন্থী। এদিকে, নবনিযুক্ত প্রশাসক সাইফুল ইসলাম শাহীনের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া জানার জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি, যা জনমনে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

এই বিতর্কিত নিয়োগের প্রভাব সিরাজগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি দলের অভ্যন্তরে এই ক্ষোভ প্রশমিত না হয়, তবে আসন্ন দিনগুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসার সম্ভাবনা প্রবল। একইসঙ্গে, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে প্রশাসনিক পদে অখ্যাত মুখ বসানোর এই সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি করছে।

নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় মনোনয়ন বা প্রশাসনিক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূলের ভিত্তি যে চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে, সিরাজগঞ্জের এই ঘটনা তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator