কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এর টিকার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গিয়ে প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন শত শত পরিবার। এতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জনমনে।
উপজেলার বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শিশুদের নিয়ে টিকা নিতে আসছেন অভিভাবকরা। কিন্তু প্রয়োজনীয় টিকা না থাকায় তাদের খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা।
বাজিতপুর উপজেলার বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী নুরুজ্জামান আশরাফ জানান, তার দুই মাস বয়সী ছেলে সন্তানকে এখন পর্যন্ত নির্ধারিত টিকা দিতে পারেননি। একাধিকবার কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েও টিকা না পাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বারবার গিয়েও টিকা না পাওয়ায় আমরা খুব হতাশ। সন্তানকে রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে না পারার ভয় সবসময় কাজ করছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেক অভিভাবক। তারা জানান, স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা সংকটের কথা জানিয়ে পরে আসতে বলছেন। তবে কবে নাগাদ টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইপিআই টিকার সরবরাহ কম রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা টিকার ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, বর্তমানে সারাদেশেই কিছু ইপিআই টিকার ঘাটতি রয়েছে। আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
স্বাস্থ্যসচেতন মহল বলছে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হলে হাম, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও নিউমোনিয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই দ্রুত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা