কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের খয়েরাবাদ গ্রামে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন সড়ক’-এর ইটের সলিং জোরপূর্বক তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিলাল গাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খয়েরাবাদ গ্রামের দোনাগাজী বাড়ি থেকে খয়েরাবাদ দাখিল সালাম মাদ্রাসা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বিলাল গাজী পুনরায় এলাকায় বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন এবং সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিলাল গাজী বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর একটি হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় পাঁচ মাস কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আরও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
খয়েরাবাদ এলাকায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, কার ছত্রছায়ায় এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিলাল গাজী। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনেই তিনি আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা করছেন না। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা ও এলজিইডি অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হোক।