তেল নাই’ লেখা পাম্পে অভিযানে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল, জরিমানা ৫০ হাজার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তেল নাই’ লেখা পাম্পে অভিযানে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল, জরিমানা ৫০ হাজার..

মো: সৈকত হাসান, ফরিদপুর avatar   
মো: সৈকত হাসান, ফরিদপুর
তেল নাই’ লেখা পাম্পে অভিযানে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল, জরিমানা ৫০ হাজার..
তেল নাই’ লেখা পাম্পে অভিযানে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল, জরিমানা ৫০ হাজার..
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, আরেক পাম্পে মিলল আরও ২৫ হাজার ৯০০ লিটার জ্বালানি..

‘

মো: সৈকত হাসান, ফরিদপুর প্রতিনিধি :


ফরিদপুরে ‘তেল নাই’ লেখা একটি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের অভিযানে ২৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুদ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জেলার আরেকটি ফিলিং স্টেশনেও অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুদ থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রাখার সত্যতা পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ফরিদপুর সদর উপজেলার ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের পাশের কানাইপুর বাজার এলাকায় অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়।
সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া-এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান আকাশ।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযান চলাকালে কানাইপুর বাজার এলাকার হোসেন ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মজুদ যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পটিতে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল সংরক্ষিত রয়েছে। অর্থাৎ মোট ২৮ হাজার লিটার জ্বালানি মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ভোক্তাদের অভিযোগের সরাসরি সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর আওতায় হোসেন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে পাম্পটি তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দিয়ে বাস, ট্রাক, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যান, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
এ সময় পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে একই অভিযানে ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের পাশের কানাইপুর এলাকার রয়েল ফিলিং স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে, তবে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরে মজুদ যাচাই করে দেখা যায়, সেখানে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। অর্থাৎ মোট ২৫ হাজার ৯০০ লিটার জ্বালানি মজুদ ছিল।
এ সময় পাম্পটির মালিক ও ম্যানেজার মেশিনের সমস্যার কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ লাইন চালু করে ভোক্তাদের জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা মজুদ রেখে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator