রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্থাটির বিভিন্ন জোনের মধ্যে ৬/১ জোনে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জোনটির অথরাইজড অফিসার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মোঃ আব্দুল আল মামুনের তদারকিতেই দাপ্তরিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিভিন্ন ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ, দাপ্তরিক জটিলতা কমানো এবং নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে পূর্বের তুলনায় সেবাপ্রার্থীরা এখন দ্রুত সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে অননুমোদিত নির্মাণ প্রতিরোধ, ভবনের নকশা বিধিমালা অনুযায়ী যাচাই এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূত নির্মাণ কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে।
অফিস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং চালু রয়েছে। একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ শোনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করার ব্যবস্থা থাকায় সাধারণ মানুষের আস্থা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তিনির্ভর দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নথি সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি এসেছে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে দাপ্তরিক অনিয়মের সুযোগ কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সহকর্মীদের মতে, দায়িত্ব পালনে কঠোরতা ও মানবিক আচরণের সমন্বয় বজায় রাখার কারণে ৬/১ জোনে একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দাপ্তরিক কাজেও গতিশীলতা এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, মোঃ আব্দুল আল মামুনের নেতৃত্বে এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাজধানীর উন্নয়ন কার্যক্রম আরও পরিকল্পিত ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজউকের অন্যান্য জোনের জন্যও এটি একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।