মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার খবরের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক মেহেদী হাসান। তিনি দাবি করেছেন, ইরান-ইসরায়েল সংকট নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো দর্শকদের 'একপেশে' এবং 'বিকৃত' তথ্য দিচ্ছে। তাঁর মতে, পশ্চিমা মিডিয়ার খবর দেখলে মনে হয় যেন ইরান বিনা উসকানিতে ইসরায়েলে হামলা করেছে, অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সম্প্রতি 'জিতেও' (Zeteo) প্লাটফর্মে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মেহেদী হাসান পশ্চিমা মিডিয়ার এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
'ইসরায়েল আগ্রাসী, ইরান শিকার' মেহদী হাসানের মতে, পশ্চিমা মিডিয়া সবসময় ইসরায়েলকে 'ভিকটিম' বা শিকার হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইসরায়েলই প্রথম ইরানের ওপর বেআইনিভাবে আগ্রাসন চালিয়েছিল, এবং ইরান তার জবাব দিচ্ছে মাত্র।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' ভিডিওটিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' বা দ্বিমুখী নীতির ওপর। মেহদী হাসান বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরেন:
-
অস্ত্রের মজুত: ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই, কিন্তু ইসরায়েলের কাছে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের হাতে ৮০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে।
-
আন্তর্জাতিক চুক্তি: ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (NPT) স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু ইসরায়েল তা করেনি।
-
পরিদর্শন: ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) তাদের দেশে পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে, যা ইসরায়েল কখনোই দেয়নি।
ইসরায়েলি মন্ত্রীর মুখে কুলুপ ভিডিওতে ২০১৮ সালে আল জাজিরার 'হেড টু হেড' (Head to Head) অনুষ্ঠানে সাবেক ইসরায়েলি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানি আয়ালনের সাথে মেহদী হাসানের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের অংশ দেখানো হয়। সেখানে মেহদী হাসান ইসরায়েলের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ড্যানি আয়ালন দাবি করেন যে, ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের কোনো রেজুলেশন নেই।
কিন্তু মেহদী হাসান সঙ্গে সঙ্গেই প্রমাণ করে দেন যে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯8১ সালের ৪৮৭ নম্বর রেজুলেশনে স্পষ্টভাবে ইসরায়েলকে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো IAEA-এর সুরক্ষায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর ড্যানি আয়ালন দিতে পারেননি।
পশ্চিমা মিডিয়ার নীরবতা কেন? মেহদী হাসান প্রশ্ন তোলেন, ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি 'অস্পষ্ট' রাখতে চায়, তা বোঝা যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা কানাডার মতো দেশের মূল ধারার মিডিয়াগুলো কেন ইসরায়েলের এই পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কখনোই কোনো প্রশ্ন তোলে না? কেন তারা এই নীরবতায় সায় দিয়ে যাচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের এই একপেশে খবর পরিবেশন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।