সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে তিনফসলি কৃষিজমি ভরাট করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায়। উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের আয়মাপুর গ্রামে প্রভাবশালী ব্যক্তি শামীম হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষেতলাল-গোপীনাথপুর আঞ্চলিক সড়কের উত্তর পাশে গভীর নলকূপ স্কিমের আওতাধীন প্রায় ৩০ একর তিনফসলি জমির একাংশে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
কৃষকদের ভাষ্য, ওই মাঠে বছরে তিন মৌসুমে ধানসহ বিভিন্ন শস্য আবাদ হয়। জমির স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা নালাগুলো একটু নিচু হওয়ায় গভীর নলকূপ ও বৃষ্টির পানি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু জমি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে নালাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে জমি জলাবদ্ধ করা হলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হতে পারেন। বিষয়টি পরিকল্পিত কিনা— তা তদন্তের দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম হোসেন তালুকদার বলেন, “এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে।”
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, “তিনফসলি কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গভীর নলকূপ স্কিমভুক্ত জমিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি হলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আবাদ ব্যাহত হতে পারে। ফলে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তিনফসলি কৃষিজমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও
তিনফসলি কৃষিজমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের..
ছবি: সংগৃহীত
Không có bình luận nào được tìm thấy