বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (BPSA)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বর্তমান ইউনিফর্ম ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই পোশাকটি রঙ, আবহাওয়া, দিন-রাতের ডিউটি এবং পুলিশের সনাক্তযোগ্যতা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছিল। নতুন নকশা ও রঙ অন্যান্য ইউনিফর্মধারী বাহিনীর সঙ্গে মিলিয়ে পরিকল্পিত হলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পুলিশকে দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।
BPSA আরও জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনে প্রায় সব পুলিশ সদস্য বর্তমান ইউনিফর্মেই দায়িত্ব পালন করে প্রশংসিত হয়েছেন। এই প্রমাণিত কার্যকারিতা বিবেচনায়, নতুন ইউনিফর্মে ব্যয়বহুল পরিবর্তন এবং সরবরাহ জটিলতার সম্ভাবনা বিবেচনা করে বর্তমান পোশাক বজায় রাখাই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত হবে।
সংগঠনটি নতুন ইউনিফর্ম নকশার পরিবর্তনের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, লজিস্টিক সাপোর্ট, এবং পুলিশের কার্যকর প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউনিফর্ম শুধুমাত্র বাহ্যিক পরিচয় নয়; এটি পুলিশ সদস্যদের মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা, সনাক্তযোগ্যতা ও জনসেবা দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পোশাক পরিবর্তনের আগে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা অপরিহার্য।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শুধু পোশাকের বিষয় নয়; এটি জনবিশ্বাস, নিরাপত্তা, চেতনাসহ প্রশাসনিক দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ইউনিফর্ম পরিবর্তন করলে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ-জনতা সংযোগে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং অতিরিক্ত অর্থ ও লজিস্টিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসনিক দিক থেকে এই উদ্যোগ পুনর্বিবেচনা করা নীতি ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত হবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ ইউনিফর্মের আধুনিকায়ন নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনাও চলছে। তবে BPSA-এর সতর্কবার্তা নির্দেশ করছে, মাঠ কার্যক্রমের সাফল্য এবং জনসাধারণের বিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলার আগে কোনো পরিবর্তন নিলে তা সুষ্ঠু পরিকল্পনার সঙ্গে করা উচিত।