বরগুনার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিএফ-এ (RDF) দীর্ঘ ১৫ বছর ফিল্ড অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অব্যাহতি পাওয়া মোঃ জামাল উদ্দিন তার প্রাপ্য প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত দুই বছর ধরে তিনি ও তার পরিবার ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী জামাল উদ্দিনের প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি সেই অর্থ হাতে পাননি। বরং টাকা চাইতে গেলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
জামাল উদ্দিনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন,
“আমরা বারবার অফিসে গেছি। কখনো পরিচালকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘৭ দিন পরে টাকা দিয়ে দেবো।’ আবার তার স্বামী পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘তিন মাস পরে দেওয়া হবে।’ কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো টাকা পাইনি।”
তিনি আরও জানান, পাওনা টাকার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলার পর উল্টো তাদের পরিবারকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবারটি চরম মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা একজন কর্মীর প্রাপ্য অর্থ নিয়ে এমন টালবাহানা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন বলেন,
“আমি ১৫ বছর সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আমার নিজের টাকাই পেতে এত কষ্ট করতে হচ্ছে। আমি আমার ন্যায্য পাওনাটা চাই।”
এ বিষয়ে আরডিএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ভুক্তভোগীর ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় এমন ঘটনায় কর্মীদের আস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।