পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ ইব্রাহীম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সালাহউদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) সুশীল কুমার দাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বরগুনা সদর থানার ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে যে, বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি সড়কে একটি কিশোর গ্যাং দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় দাপট প্রদর্শন ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ‘নিঝুম ভবন’ নামক একটি ভবনে আশ্রয় নেয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—
১। মোঃ ইব্রাহিম হোসেন (কালু) (২৭),
২। মোঃ রাজন (২০),
৩। মোঃ আল আমিন (১৯),
৪। মোঃ শাকিল (২৪)।
তাদের বাড়ি বরগুনা সদর ও পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইব্রাহিম হোসেন (কালু) তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির মাধ্যমে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের কথা নিজেই স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তিনটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে—
কাঠের বাটসহ একটি ২৫ ইঞ্চি ছেনা,
কাঠের বাটসহ একটি ৩২.৫ ইঞ্চি ছেনা,
কাঠের বাটসহ একটি ২৮ ইঞ্চি রাম-দা।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ১০–১২ জনের একটি কিশোর গ্যাং গঠন করে বরগুনা সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাপট প্রদর্শন, মারধর এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪(১) ধারা এবং অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এর ১৯(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় পূর্বের একাধিক মারামারি, হামলা ও হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এসআই সুশীল কুমার দাস বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।