নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, রমজানের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত, যা সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপাত অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে বরগুনা জেলা থেকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু।
আইনপেশা ও রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী বরগুনার তৃণমূল পর্যায়ে সুপরিচিত মুখ। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি বরগুনা জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জেলা আইনজীবী সমিতির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।
দীর্ঘ ২৪ বছরের আইনজীবী জীবনে তিনি ব্র্যাক, জাগোনারী ও জেলা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে প্রান্তিক ও নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে তিনি ‘অদম্য নারী পুরস্কার’-এ জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে বিএম কলেজ ছাত্রদল থেকে। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, নারী অধিকার জোট এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মতো সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আইনি অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তবে মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় হাইকমান্ড ও রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করবে।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান যদি আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব প্রদান করেন, তবে আমি আমার জীবনের সর্বোচ্চ দিয়ে অবহেলিত বরগুনাবাসীর কল্যাণে কাজ করব। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দল ও দেশের প্রয়োজনে জানপ্রাণ দিয়ে সেবায় নিয়োজিত থাকব ইনশাআল্লাহ।”