তাদের মুক্তি দিতে মহাজনদের কাছে জন প্রতি চাওয়া হচ্ছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। যার অংক দাঁড়ায় ৭০ লাখ টাকা। তবে মুক্তিপণ কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে জেলে মহাজন ও দস্যুদের মধ্যে দর কষাকষি চলছে এমনটা জানিয়েছেন বনবিভাগ।
এদিকে অপহরণ আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ রাখা জেলেদের মধ্যে কিছু কিছু জেলে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়া শুরু করেছে। তবে,জেলেদের চরের কাছাকাছি দূরত্বে থেকে মাছ আহরণ এবং দিনে দিনে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন বনবিভাগ।
জানা যায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লী এলাকা থেকে ২০ ট্রলারের ২০ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায় বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।
অপহরণের পর পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে নিয়মিত মাছ ধরা জেলেরা নিরাপত্তার কারণে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ মাছ সংকট দেখা দিয়েছে এবং লোকসানের মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। এছাড়া হাজার হাজার দরিদ্র জেলের আর্থিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, অপহৃত জেলেদের মহাজনদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে দস্যুরা ট্রলার প্রতি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করেছে। তবে দস্যুদের মুক্তিপন পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি। দ্রুত মুক্তিপনের টাকা পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের জীবনের জন্য ভয়াবহ পরিণতি এবং ভবিষ্যতে মাছ ধরার জন্য আগাম চাঁদা দিতে হবে বলেও হুমকি দিয়েছে ওই দস্যু বাহিনী।