তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী হত্যার পাঁচ বছর: বিচারের আশায় পরিবার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী হত্যার পাঁচ বছর: বিচারের আশায় পরিবার..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী হত্যার পাঁচ বছর: বিচারের আশায় পরিবার..
তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী হত্যার পাঁচ বছর: বিচারের আশায় পরিবার..
ছবি: সংগৃহীত
****

 

 

দিনাজপুর প্রতিনিধি: খাঁন মোঃ আঃ মজিদ 

 

২০২০ সালের এই দিনে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নির্বাচিত কমিশনার মোঃ আইয়ুব আলীকে। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি তার পরিবার।

 

নিহত আইয়ুব আলী সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপির একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ২০২০ সালের ১১ অথবা ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বোচাগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি আইয়ুব আলীর নির্দেশে এসআই সোহেল ও এসআই সুকুমার রায় আইয়ুব আলীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। উল্লেখ্য, নিহত ব্যক্তির নাম এবং তৎকালীন থানার ওসির নাম—উভয়ই আইয়ুব আলী হওয়ায় বিষয়টি আরও বিভ্রান্তিকর ছিল। সরল বিশ্বাসে তিনি পুলিশের সঙ্গে থানায় যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।

 

পরিবারের অভিযোগ, থানা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন কখনোই স্বীকার করেনি। প্রায় সাত দিন পর, ১৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তাকে ‘কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।

 

নিহতের স্বজনরা জানান, মৃত্যুর পর পুলিশ জানাজা ঘোষণার জন্য মাইকিং করতেও বাধা দেয়। তবুও শত বাধা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ আইয়ুব আলীর জানাজায় অংশ নেন, যা তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।

 

পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির বহু নেতাকর্মী বন্দুকযুদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নিহত হলেও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হলেও আইয়ুব আলীর পরিবারের খোঁজ কখনো নেওয়া হয়নি।

 

নিহতের ভাই বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানেন না, অথবা দলের কোনো নেতা তাকে বিষয়টি অবগত করেননি।”

 

তিনি আরও জানান, নিহত আইয়ুব আলীর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করেছেন—বিএনপি ক্ষমতায় এলে হয়তো স্বামী হত্যার বিচার পাবেন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরিবারটি নতুন করে আশার আলো দেখছে।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ঘটনা তুলে ধরা সম্ভব হয়নি

বলেও তারা জানান।

 

 

No se encontraron comentarios


News Card Generator