বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৪ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৪ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ..

Mj Moumi avatar   
Mj Moumi
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৪ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ..
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ৪ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল–এর চার কোটি তিন লাখ টাকার ক্রয়কাজের দরপত্র আহ্বানকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।..

 নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত সংযোজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার।অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিক ঠিকাদার দরপত্রের ফরম সংগ্রহ করলেও শর্তের কারণে শেষ পর্যন্ত বাবা-ছেলের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠানের মোট ১২টি দরপত্রই জমা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।

 

দরপত্র বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি ওষুধ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, গজ-ব্যান্ডেজ, লিনেন সামগ্রী, রি-এজেন্ট ও আসবাবপত্র কেনার জন্য ছয়টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র খোলার তারিখ ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু অনলাইনে তা ১৬ ফেব্রুয়ারি খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ছয়টি প্যাকেজে মোট ২৪টি দরপত্র ফরম বিক্রি হলেও প্রতিটি প্যাকেজে জমা পড়েছে শুধু মেসার্স আহসান ব্রাদার্স ও মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের ১২টি ফরম। প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক বরিশালের সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই।

 

অন্য ঠিকাদারদের অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় ও জটিল শর্ত দেওয়ার কারণে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে গেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি মেসার্স বায়েজীদ অ্যান্ড কোম্পানি ও আই ম্যান করপোরেশনের স্বত্বাধিকারীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দরপত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্পেসিফিকেশন পূরণ না করেই টেন্ডার লাইভ করা হয়েছে, যা পিপিআর নীতিমালার পরিপন্থী। স্পেসিফিকেশন ছাড়া সঠিক দর দেওয়া সম্ভব নয় এবং এতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।

 

দরপত্রের শর্তে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে চেম্বার অব কমার্স ও বাংলাদেশ মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের মতে, নির্দিষ্ট সংগঠনের সদস্যপদ বাধ্যতামূলক করা প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী এবং এতে একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমদানিকারক নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করায় ছোট ও মাঝারি সরবরাহকারীরা বাদ পড়েছেন।

 

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, “নিয়মের মধ্যেই শর্ত দেওয়া হয়েছে। কারও আপত্তি থাকলে ই-জিপির অভিযোগ বিভাগে অভিযোগ করতে পারেন। সরকার প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত করবে।”

 

বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Walang nakitang komento


News Card Generator