ভোট দিতে দুবলার শ্যুটকি পল্লী ছেড়েছেন ৮ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভোট দিতে দুবলার শ্যুটকি পল্লী ছেড়েছেন ৮ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন..

Mahfuz Bappi Khan avatar   
Mahfuz Bappi Khan
ভোট দিতে দুবলার শ্যুটকি পল্লী ছেড়েছেন ৮ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন..
ভোট দিতে দুবলার শ্যুটকি পল্লী ছেড়েছেন ৮ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন..
ছবি: সংগৃহীত
১২ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে দেশের বৃহত্তম শ্যুটকি উৎপাদন কেন্দ্রের প্রায় ৮ সহস্রাধিক জেলে-মহাজন বাড়ি ফিরেছে।..

বরাবরের মতো এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন তারা। মাছ ধরা বন্ধ রেখে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে তারা নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। গত রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) বিকেল পর্যন্ত তিন দিনে আট সহস্রাধিক  জেলে ও মহাজন চর ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। 

এদিকে সাগর তীরবর্তী পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুর্গম দুবলার চরের আওতাধীন আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া, শেলারচরসহ চারটি চরে শোভা পাচ্ছে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের পোষ্টার-ব্যানার। নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পর থেকেই নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চারিয়েছেন চরে অবস্থানকারী শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত জেলে-মহাজনরা। 

বনবিভাগ ও শুঁটকি সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, দুবলার চরের আওতাধীন চারটি চরে দশ সহস্রাধিক  জেলে-মহাজন অবস্থান নিয়ে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে মাছ ধরে শুঁটকি উৎপাদন করছেন। এসব জেলেদের বেশিরভাগের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, তালা, বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল এবং খুলনার ডুমুরিয়া, দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায়। জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন এলেই স্ব স্ব দলমতের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় মেতে ওঠেন তারা। আর ভোটের আগেই তারা ভোট প্রদানের জন্য চর ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে যান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 

দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের মহাজন ও রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো. মোতাসিম ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক জাকির শেখ, ডুমুরিয়ার মালো জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ বিশ্বাস ও আশাশুনির চাকলা জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুর রউফ মেম্বার বলেন, আমরা ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি চলে এসেছি। বেশিরভাগ জেলে ভোট দিতে তাদের এলাকায় চলে গেছেন। ভোট শেষে আমরা সবাই আবার চরে ফিরে আসবো।   

দুবলা চরের ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, বরাবরের মতো এবারও বঙ্গোপসাগরের দুর্গম দুবলারচরে লেগেছে সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। তিন দিনে দুবলার জেলে পল্লীর চারটি চরের দশ সহস্রাধিক জেলের মধ্যে আট হাজারেরও বেশি জেলে চর ছেড়ে ভোট দিতে চলে গেছেন। এর আগে তারা পোষ্টার-ব্যানার টাঙানোর পাশাপাশি নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এছাড়া কয়েকদিন আগে বেশ কয়েকজন প্রার্থীও শুঁটকি পল্লীগুলোতে এসে জনসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গেছেন। 

পূর্ব সুন্দরবন দুবলার আলোরকোল ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো. তানভির হাসান ইমরান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শুঁটকি পল্লীতে একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। ভোট দেওয়ার জন্য জেলে-মহাজনরা তাদের এলাকায় চলে যাওয়ায় চরগুলো একেবারে জনশূণ্য হয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে আট সহস্রাধিক  জেলে-মহাজন বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে দুবলারচর থেকে তাদের এলাকায় চলে গেছেন। জেলে-মহাজনদের এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ##

 

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator