গত বছর পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ উপজেলার পাটহাটি এলাকায় সাংবাদিক নাদিমের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তৎকালীন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবুর নাম উঠে আসে। ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পঞ্চগড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
হঠাৎ করে তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনকে সচেতন মহল ‘নিজেকে রক্ষার কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিকদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সাধুরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লা বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে যারা বিতর্কিত হয়েছেন কিংবা যাদের বিরুদ্ধে খুনের মতো গুরুতর মামলা রয়েছে, তাদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ধানের শীষের প্রচারণা চালালেও তার দায় দল নেবে না। অপরাধী অপরাধীই।”
বকশীগঞ্জ গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহাম্মেদ সুমন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। যিনি দীর্ঘদিন নৌকার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তিনি আজ পিঠ বাঁচাতে ধানের শীষের স্লোগান দিচ্ছেন। এটি বিচার থেকে রেহাই পাওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।”
সাংবাদিক নাদিমের মেয়ে রাব্বিলাতুল জান্নাত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা শঙ্কিত—রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার যেন নিশ্চিত হয়—এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।”