ভাইরাল ভুয়া ছবির ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার, পরে আদালত থেকে মুক্ত.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভাইরাল ভুয়া ছবির ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার, পরে আদালত থেকে মুক্ত..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
ভাইরাল ভুয়া ছবির ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার, পরে আদালত থেকে মুক্ত..
ভাইরাল ভুয়া ছবির ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার, পরে আদালত থেকে মুক্ত..
ছবি: সংগৃহীত
তিনি দাবি করেন,  চন্দ্রঘোনা কদমতলি বালুমহল ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। বিএনপির  কিছু সুবিধাভোগী  গ্রুপিং এ  বলি হতে হয় আমাকে।..

 

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কদমতলি ইউনিয়নে বাসিন্দা  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভুয়া ছবির ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতা শওকত আলীকে গ্রেফতার করা হলেও পরে আদালত থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
গত ৭ জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শওকত আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে তার ছবি ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিডিনিউজ২৪, যুগান্তর, চট্টগ্রামের সিপ্লাস টিভিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হয়।
৭ জানুয়ারি বিডিনিউজ২৪-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “অস্ত্র হাতে শওকতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।” পুলিশের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারের সময় অস্ত্র উদ্ধার না হলেও তাকে রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে  যাচাই করে দেখতে পায়, শওকত আলীর নামে যে দুটি ছবি অস্ত্রসহ ভাইরাল হয়েছে, সেগুলো ভুয়া ও সম্পাদিত (এডিটেড)। মূলত তার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত পুরনো দুটি ছবিতে পরবর্তীতে ডিজিটালি অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে।
 ছবিগুলোর একটি ২০২৪ সালে ১২ই সেপ্টেম্বর কদমতলি কর্ণফুলি নদীর পাশে অপরটি  ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শওকত আলী নিজেই তার ফেসবুক প্রোফাইলে আপলোড করেছিলেন। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা ছিল—“স্বাধীন বাংলা হয়েছে স্বাধীন ২০২৪.০৮.০৫”। পরে ওই ছবিতে অস্ত্র সংযোজন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়। আরেকটি ছবি তিনি একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পোস্ট করেছিলেন, যেটিতেও একইভাবে অস্ত্র যোগ করে ভুয়া ছবি তৈরি করা হয়।
শওকত আলী বলেন, “এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার ছবিতে অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। অন্তত ১০টি ফেক আইডি থেকে এসব ছবি ছড়ানো হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন,  চন্দ্রঘোনা কদমতলি বালুমহল ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। বিএনপির  কিছু সুবিধাভোগী  গ্রুপিং এ  বলি হতে হয় আমাকে।
শওকত আলীর ভাষায়, “আমার অপরাধ একটাই—আমি বালুমহল আর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।”
ভুয়া ছবি ছড়ানোর বিষয়টি নজরে আসার পর গত ১২ নভেম্বর তিনি রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি অনলাইন জিডি করেন। জিডিতে সংশ্লিষ্ট ফেক আইডিগুলোর নাম ও লিংক উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ দেন। শওকত আলীর দাবি, গ্রেপ্তারের আগে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না।
রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রাথমিক তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় শওকত আলীর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে তখন কোনো সুনির্দিষ্ট মামলাও ছিল না। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো না হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে আদালত থেকে তিনি মুক্তি পান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানির একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator