সিরাজগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত দখল, হকার বসানো এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন পার্কিং দীর্ঘদিন ধরেই জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। এ বাস্তবতায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক উচ্ছেদ ও শৃঙ্খলা অভিযান নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে পুরোনো চিত্র ফিরে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর শহীদ শামসুদ্দিন গেট থেকে বাজার স্টেশন, নিউ ঢাকা রোডের রেলগেট মোড় হয়ে মালসাপাড়া পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই দিনে অবৈধ মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে জরিমানা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ওইসব এলাকায় সাময়িকভাবে হলেও যান চলাচল ও পথচারীদের চলার পরিবেশ স্বস্তিদায়ক হয়।
এরপর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। ফুটপাত দখলকারীদের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
শহরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭ জানুয়ারি মুন্সি মেহেরুল্লাহ সড়ক, শহীদ সরোয়ার্দি সড়ক, বানিয়াপট্টি, পৌরসভা রোড, নিউ ঢাকা রোড ও বাজার স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পৌরসভার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে ভেজাল গুড়ের আড়ত, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের অভিযোগে জরিমানা করা হয় এবং একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
পরবর্তীতে ১১ জানুয়ারি বাহিরগোলা রোড এবং ১২ জানুয়ারি এসএস রোডে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালিত হয়। এসব উদ্যোগে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে নগরবাসীর একাংশের অভিযোগ, অতীতেও উচ্ছেদের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই ভাঙা দোকান আবার গড়ে উঠেছে এবং সরিয়ে নেওয়া যানবাহন পুনরায় নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিং করতে দেখা গেছে।
সচেতন মহলের মতে, এককালীন অভিযান নয়, বরং নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং দায়ী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ই পারে এই উদ্যোগকে কার্যকর ও টেকসই করতে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে অভিযান কেবল সাময়িক সাফল্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সিরাজগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা—সিরাজগঞ্জ শহরে চলমান উচ্ছেদ ও শৃঙ্খলা অভিযান যেন লোক দেখানো কর্মসূচিতে পরিণত না হয়। জনস্বার্থে নেওয়া এই উদ্যোগকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, নিয়মিত তদারকি এবং নাগরিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।