৬ জানুয়ারি, ২০২৬ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) নাম ও ছবি ব্যবহার করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে একটি প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম-এর পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রোফাইল খোলে। এরপর তারা দিনাজপুর-০৪ (খানসামা ও চিরিরবন্দর) আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী জনাব আক্তারুজ্জামান মিয়ার সাথে যোগাযোগ শুরু করে।
প্রতারকরা নিজেদের পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে জানায় যে, নির্বাচন উপলক্ষে চিরিরবন্দর এলাকায় দুটি পুলিশ বুথ নির্মাণ করা হবে। এই বুথ নির্মাণের জন্য ২ লক্ষ টাকা ‘ডোনেশন’ হিসেবে প্রদান করতে তারা প্রার্থীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। প্রলোভন ও চাপের মুখে পড়ে গত ২ জানুয়ারি প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া দুটি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য চাপ দিলে এবং আগের নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়।
এই ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি দিনাজপুরের একটি বিশেষ টিম ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মোঃ জুনাইদ খন্দকার (২৪), পিতা- মৃত ইদ্রিস খন্দকার (নেত্রকোনা)। ২. মোঃ হিমেল (২৩), পিতা- আরশাদ আলী (ময়মনসিংহ)।
গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত:
৩টি মোবাইল ফোন।৫ টি সিমকার্ড।নগদ ১,৪৮,১৩৫/- টাকা উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কন্ট্রোল রুমের নম্বর সংগ্রহ করত। এরপর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে অর্থ হাতিয়ে নিত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা পুলিশ।