রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, রাজনীতি মানেই হচ্ছে কর্মীদের সাথে নেতার আত্মার সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান। দলীয় প্রধান, মমতাময়ী মা ও দেশনেত্রী (মরহুমা) বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ঢাকায় গুরুতর আহত হওয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোঃ কামরুল হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজে সিরাজগঞ্জ থেকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন অগণিত নেতাকর্মী। সেই ভিড়ের মধ্যে পড়ে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গুরুতর আহত হন সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নিবেদিতপ্রাণ সদস্য মোঃ কামরুল হাসান। বর্তমানে তিনি নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ রবিবার (০৪ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ শহরের কামরুলের বাসভবনে তাকে দেখতে যান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান। এ সময় তিনি বেশ কিছুক্ষণ কামরুলের শয্যাপাশে অবস্থান করেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খুঁটিনাটি খোঁজখবর নেন।
আহত কর্মীর হাত ধরে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, "আমাদের নেত্রীর প্রতি কামরুলের এই ভালোবাসা ও ত্যাগ সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি চিরকাল মনে রাখবে। মাঠের কর্মীরাই দলের প্রাণ। কামরুলের মতো দুঃসাহসী কর্মীদের জন্যই আজ আমরা প্রতিকূল সময়েও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি।"
পরিদর্শনের সময় মির্জা মোস্তফা জামান কামরুলের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তার পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতার এমন আন্তরিকতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কামরুলের পরিবার ও উপস্থিত স্থানীয় কর্মীরা।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, দলের এই দুঃসময়ে শীর্ষ নেতাদের এভাবে তৃণমূলের কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া সাধারণ কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তারা মনে করেন, এটিই জাতীয়তাবাদী শক্তির আসল ঐক্যের প্রতীক।
বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত এই নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট ভুলে দেশ ও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মির্জা মোস্তফা জামানের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। কামরুল হাসান দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার রাজপথে ফিরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।