সীতাকুন্ড উপজেলার প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদাম বিবির হাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.বি.এম. গোলাম নুর পুনরায় মবের মুখে পড়েছেন। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) তিনি নিজ বিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মো. রাশেদ হোসেন ও তার শ্যালক সায়েফ আলী আরমান বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৬ আগস্ট ছাত্রদলের স্থানীয় ওয়ার্ড শাখার শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সায়েফ আলীর নেতৃত্বে বহিরাগত একটি দল বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে “ফ্যাসিস্টের দোসর” আখ্যা দিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে মব সৃষ্টিতে জড়িত শিক্ষার্থীরা ভুল স্বীকার করে এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। বর্তমান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গেলে মঙ্গলবারের এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করাতে চেষ্টা করে। তিনি এতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ সাহাব উদ্দিন শিক্ষক মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সায়েফ আলী আরমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ চাই।”
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, এ.বি.এম. গোলাম নুর প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, যিনি এই ঘটনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি বহিরাগত এবং তার আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ।
একজন শিক্ষক জানান, ২০২৪ সালের মার্চে যোগদানের পর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন, যা কিছু স্বার্থান্বেষী মহল মেনে নিতে পারছে না।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক এ.বি.এম. গোলাম নুর বলেন,
“আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণেই আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে আমি ন্যায়বিচার চাই।”
এদিকে পূর্বে মব সৃষ্টিতে জড়িত শিক্ষার্থী ইয়াসিন চৌধুরী জানান, তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অন্যায়ের জন্য অনুতপ্ত। মঙ্গলবার শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই তাকে স্বাগত জানায়। কিন্তু হঠাৎ সায়েফ আলী আরমান ও মো. রাশেদ হোসেন এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং তাকে ও তার সহপাঠীদের মারধর করে।
সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীতাকুন্ডে প্রধান শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, বিদ্যালয়ে চরম আতঙ্ক.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও
সীতাকুন্ডে প্রধান শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, বিদ্যালয়ে চরম আতঙ্ক..
ছবি: সংগৃহীত
לא נמצאו הערות