দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার দ্বিতীয় দিনেই জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সাথে তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও এনআইডির জন্য আবেদন করেছেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি এনআইডি নিবন্ধনের জন্য আঙুলের ছাপ, চোখের মণির প্রতিচ্ছবি (আইরিশ) ও প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করেন।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, "বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি তার এনআইডি হাতে পাবেন।"
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি পাশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে বের হয়ে তারেক রহমান ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করতে বনানী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে ধানমন্ডিতে শ্বশুরবাড়ি 'মাহবুব ভবন' হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট হয়ে ঢাকায় পৌঁছান তারেক রহমান। তার সাথে ফেরেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর পর শেরেবাংলা নগরে বাবা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানান এবং পরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে লাখো মানুষের ঢল নামে তাকে একনজর দেখার জন্য। বর্তমানে তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রটোকল প্রদান করা হচ্ছে।