লামার সরই ইউনিয়নে সন্ধ্যা নামলেই বন লুট: কার ছত্রছায়ায় চলছে কাঠ ও লাকড়ি পাচার?.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

লামার সরই ইউনিয়নে সন্ধ্যা নামলেই বন লুট: কার ছত্রছায়ায় চলছে কাঠ ও লাকড়ি পাচার?..

Farhad Ahmad avatar   
Farhad Ahmad
লামার সরই ইউনিয়নে সন্ধ্যা নামলেই বন লুট: কার ছত্রছায়ায় চলছে কাঠ ও লাকড়ি পাচার?..
লামার সরই ইউনিয়নে সন্ধ্যা নামলেই বন লুট: কার ছত্রছায়ায় চলছে কাঠ ও লাকড়ি পাচার?..
ছবি: সংগৃহীত
****

 লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয়ে ওঠে অবৈধ কাঠ ও লাকড়ি পাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিন কিংবা রাত—কোনো সময়েই বন লুটে বাধা নেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই চলছে এই পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব।

অভিযোগ রয়েছে, বান্দরবানের লামা বন বিভাগের আওতাধীন ডলু ছড়ি রেঞ্জের কেয়াজুপাড়া বিট কর্মকর্তা আব্দুল করিমের নাম ভাঙিয়ে লুলাইং, মেরাইত্তাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে কাঠ ও লাকড়ি পাচার করা হচ্ছে। পাচারকারী সিন্ডিকেটটি লাকড়িবাহী প্রতিটি গাড়ি থেকে ৪০০ টাকা এবং কাঠবাহী প্রতিটি গাড়ি থেকে ১,৫০০ টাকা করে আদায় করছে বলে একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাচার হওয়া এই অবৈধ কাঠ ও লাকড়ি লামা উপজেলার ফাইতং, ফাসিয়াখালী, লামা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়মিতভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বনাঞ্চল থেকে কাটা গাছ ও লাকড়ি, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও ভয়াবহ ও সংগঠিত অপরাধে রূপ দিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে—
এই বিপুল অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে?
বিট কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে যদি প্রতিদিন প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় ও কাঠ পাচার চলে, তবে তা কি সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের অজান্তে সম্ভব? নাকি বন বিভাগের একটি অংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বনের সর্বনাশ চালিয়ে যাচ্ছে?

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বন বিভাগের টহল কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহনে করে নির্বিঘ্নে কাঠ ও লাকড়ি বহন করা হয়। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় বনসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ, পাহাড়ের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুস্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের দাবি—অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পাচার সিন্ডিকেট, অর্থ আদায়ের গন্তব্য এবং ইটভাটাগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক।

নচেৎ প্রশ্ন থেকেই যাবে—এই অবৈধ কাঠ পাচার কি কেবল কিছু বনখেকোর দুঃসাহস, নাকি প্রশাসনিক নীরবতার আড়ালে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্র?

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator