অবশেষে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অবশেষে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির

Juwel Hossain avatar   
Juwel Hossain
অবশেষে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির
অবশেষে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ১৩–১৭টি আসনে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি ঘোষিত ২৭২টি আসনের মনোনয়ন তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন এখনো শেষ না হওয়ায় বেশ কয়েকটি আসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে।

দলীয় এবং সমমনা রাজনীতিকদের সঙ্গে কয়েক দিনের আলোচনায় জানা গেছে, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, শহীদ উদ্দিন স্বপনসহ কয়েকজনের আসন নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সাইফুল হক ঢাকা-৮ থেকে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক হলেও সেখানে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস থাকায় তিনি ঢাকা-১২ আসনকে লক্ষ্য করছেন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবকে নিয়ে দলের ভেতরেই মতপার্থক্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাইফুল হক জানান, শরিকদের সঙ্গে আলোচনার বৈঠক শনিবার গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “আলোচনা চলমান আছে, আমরা সমাধান আশা করছি।”

ঢাকা-১২ আসন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। একজন সদস্যের বক্তব্য—সাইফুল আলম নীরবের বিরুদ্ধে চার শতাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন। তাকে বাদ দেওয়া কঠিন। অন্যদিকে আরেকজন নেতা মনে করেন, তেজগাঁও–কাওরান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে নীরবের বিরুদ্ধে দলীয় সংগঠন ভেঙে দেওয়ায় এ আসনটি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। একইসঙ্গে দীর্ঘ আন্দোলনে সাইফুল হকের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার রাতের বৈঠকে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত নেতাদের আসন ছাড় দিতে না পারলে ভবিষ্যৎ সরকারে সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের আশ্বাস দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে সাইফুল হক বলেন, “প্রথমে নির্বাচন—এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।”

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, “আন্দোলন করেছি একসঙ্গে, নির্বাচনেও একসঙ্গে থাকতে হবে।” নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি একেএম আশরাফুল হক জানান, জাতীয় স্বার্থ ও নির্বাচনের কঠিন বাস্তবতায় সমন্বিত নির্বাচনি প্রক্রিয়াই এখন জরুরি।

আসন বণ্টন জটিলতা নিরসনে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ ও নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শনিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে বিএনপি।

দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫টি আসন ছাড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে এসব আসনে বিএনপি নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারে।

তফসিল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, প্রথম দুই দফায় দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে খুব শিগগির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে গভীর বিবেচনার ভিত্তিতে।”

অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের এক নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন বণ্টনে জটিলতা তৈরি হলে জোটে ভাঙন দেখা দিতে পারে। বিএনপির সমমনাদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া জামায়াতও নীরবে দলগুলোকে একত্রিত করে নির্বাচনে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ঘোষিত ২৭২ প্রার্থীর তালিকা থেকে ১৩–১৭টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন চূড়ান্ত হতে পারে।

জাতীয় নির্বাচনের পারিপার্শ্বিকতা, শরিকদের দাবি এবং মামলা–রাজনীতির বাস্তবতা মিলিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator