মাধবপুরে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুট, প্রশাসন নীরব, সিন্ডিকেট বেপরোয়া.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মাধবপুরে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুট, প্রশাসন নীরব, সিন্ডিকেট বেপরোয়া..

Nahid Hasan avatar   
Nahid Hasan
মাধবপুরে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুট, প্রশাসন নীরব, সিন্ডিকেট বেপরোয়া..
মাধবপুরে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুট, প্রশাসন নীরব, সিন্ডিকেট বেপরোয়া..
ছবি: সংগৃহীত
****

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

ভারত থেকে নেমে আসা সোনাই নদী এখন পরিণত হয়েছে সিলিকা বালির অবৈধ খনিতে। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের নদীপাড়জুড়ে দিন-রাত চলছে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুটপাট। খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, উপজেলা প্রশাসন কিংবা ভূমি অফিস—কোথাও কোনো নির্দেশ বা অনুমোদন না থাকলেও সিন্ডিকেটের তৎপরতা থেমে নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রশাসনের নীরবতা ও কিছু প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদেই চলছে এ অবৈধ বাণিজ্য।

চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকায় অন্তত ১৮–২০টি বিশাল বালুস্তূপ গড়ে উঠেছে। এতে মজুদ রয়েছে ২–৩ লাখ ঘনফুট সিলিকা বালি, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যেই প্রায় লাখ খানেক ঘনফুট বালি পাচার হয়ে গেছে—যার মূল্য এক কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু এ বিষয়ে জব্দ, তালিকা প্রস্তুত বা তথ্য খনিজ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর।

নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধারকৃত বা নদী থেকে উত্তোলিত বালুর বিষয়ে ভূমি অফিস বা উপজেলা প্রশাসনের খনিজ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা ‘কমিশন বাণিজ্যের’ বিনিময়ে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকা, আর লাভবান হচ্ছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া এসব বালু জব্দ এবং নিলামের দাবিতে খনিজ মন্ত্রণালয় সহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ—“প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব রয়েছে, কারণ এ কাজে জড়িত রয়েছে ক্ষমতাসীন একটি চক্র।”

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ সিলিকা বালু লুটপাটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,
“সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব লোপাট হচ্ছে। অথচ উপজেলা প্রশাসন সব জেনেও অজুহাত তৈরি করে বসে আছে। দ্রুত এসব বালু জব্দ করে নিলামে তুললে সরকার বিপুল রাজস্ব পেত। আমি প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি—অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন, রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তারা সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে মাধবপুরের এসিল্যান্ড মজিবুল ইসলাম বলেন,
“এসব সিলিকা বালি কি না, আমরা নিশ্চিত নই। তবে অবৈধভাবে কেউ বালি পাচার করলে তথ্য দিলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। আমাদের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সোনাই নদীর সিলিকা বালি লুটপাট নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোটি টাকার সম্পদ লোপাট হলেও প্রশাসনের চোখ কেন বন্ধ?

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator