তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের আইনের শাসন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংস্করণ : আদালতের রায় ও আইনগত পর্যালোচনা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের আইনের শাসন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংস্করণ : আদালতের রায় ও আইনগত পর্যালোচনা..

Mj Moumi avatar   
Mj Moumi
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের আইনের শাসন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংস্করণ : আদালতের রায় ও আইনগত পর্যালোচনা..
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের আইনের শাসন বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংস্করণ : আদালতের রায় ও আইনগত পর্যালোচনা..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একসময় ছিল সবচেয়ে আলোচিত কখনো সবচেয়ে বিতর্কিত, আবার কখনো  সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংস্কার। ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্বাবধায়ক সরকার অন্তর্ভুক্তি থে..

 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: আস্থাহীনতার সংকট ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার উদ্ভব
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাসে অনিয়ম, পক্ষপাত, প্রশাসনিক প্রভাব,জুজুর ভয়,তৃণমূলের আগ্রাসী রাজনৈতিক পটভূমি  ও রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে এসেছে নির্বাচনি । যেখান থেকে অবিশ্বাস এর জন্ম, ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পরই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয় ততকালীন সময়ে। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত মাগুরা–২ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে  ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগকে সামনে এনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তোলে। তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ,বাসদ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী যৌথভাবে তাদের  দাবি উত্থাপন করলে দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্রতর হয়, ফলশ্রুতিতে সরকার সংবিধান সংস্করণ করে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা বাস্তবায়ন করে।তারতম্যহীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা—এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।Though the care taker government has a absolute limitation as they can exercise their power to reduce the power  politics during the time of election.
সংবিধান সংশোধন ও আইনি কাঠামো
১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধন বাংলাদেশের সংবিধানে নতুন অধ্যায় যোগ  করে। এ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—
নিরপেক্ষ প্রধান উপদেষ্টা যিনি হবেন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান (Chief Adviser)
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা  জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিচারকদের মধ্য থেকে নির্বাচন
নির্বাচনের সময় প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও প্রভাব বলয় থেকে বিরত র
 রাখা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন মাস (প্রয়োজনে সম্প্রসারণ)
এটি ছিল বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র সংবিধানসম্মত নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা।বাংলাদেশের দেখাদেখি নির্বাচন এর সময় অনেক দেশেই এই সরকার ব্যাবস্থা বলবত করেছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কেন আইনের শাসনের “সবচেয়ে বড় সংস্কার”—এর উত্তরে কয়েকটি মূল যুক্তি পাওয়া যায়,অবশ্য এই যুক্তির পেছনে রয়েছে ফেলে না দেয়ার মত সমালোচনাও
১. নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে স্বাধীনতা বৃদ্ধি
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারত বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। প্রশাসন নির্বাচনী প্রভাবমুক্ত থাকায় কমিশনের সিদ্ধান্ত অধিকতর কার্যকর হতো দ্রুত সময়ে।রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে রাষ্ট্রের অধিকাংশ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার কর্তৃকই মূলত পরিচালিত হয়।
২. রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরপেক্ষতা
তত্বাবধায়ক সরকারের সময় পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দলীয় প্রভাব কম থাকত। এতে রাজনৈতিক সহিংসতার হার  কমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক  এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ বেড়ে যেত।আসলে নিরপেক্ষতা নীতি দার্শনিক মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে।কিন্ত রাষ্ট্রযন্ত্র নিরপেক্ষ থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
৩. জনগণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা
আমরা দেখেছি ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনকে দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য বলে মূল্যায়ন করেন এবং মতামত দেন। যার ফলশ্রুতিতে  ভোটারদের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যায় নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি, যা আইনের শাসনের একটি মৌলিক উপাদান।
আদালতের রায় ও সাংবিধানিক বিতর্ক
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হলো ২০১১ সালের হাইকোর্টের যুগান্তকারী  রায় (Abdul Mannan Khan v. Bangladesh)। এই রায়ে মহামান্য  আদালত ঘোষণা করেন—
১.তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিপন্থী, কারণ এটি নির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে এমন একটা কাঠামোর হাতে ক্ষমতা স্থানান্তর করে যারা অনির্বাচিত। ফলে সাংসদীয় গণতন্ত্রের জনগণের প্রতি যে একটা দায়িত্ববোধ সেটা আর থাকে না।
২.তবে আদালত তার রায়ে  পরবর্তী দুই নির্বাচন পুরোনো ব্যবস্থায় করার সুপারিশও দেন স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য।কারণ একটা ব্যবস্থা থেকে আরেকটা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমাদের অর্থ ও সময় দুটোই দরকার। তারপর জনগণেরও এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টিভংগি রাখতে হবে যেন জনগণের কাংখিত লক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।অবাক করার মত ব্ব্যাপার হল আদালত ব্যবস্থাটিকে অকার্যকর বা অবৈধ বলেনি বরং রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা, আইনের শাসন, সুশাসন,জবাবদিহিতামূলক  নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য এটি কার্যকর ছিল এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যায় আদালতের রায়ে।এরপর সরকার ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে।
বিলুপ্তির পর পরিস্থিতি: নির্বাচন ও আইনের শাসনের সংকট
আমরা যদি লক্ষ করি দেখতে পাই ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশের নির্বাচনী দু:শাসন মূলত শুরু হয় তত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তির পরই। তাই মোটদাগে বলা যায় তত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনি জবাবদিহিতা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। 
 এই তিনটি নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ উঠেছে বিগত সরকারব্যবস্থার প্রতি,শাসকগোষ্ঠীর প্রতিও।বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন থেকে নাভিশ্বাস হয়ে গেছে।যেমন
১.ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ রয়েছে 
২.প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক বলয় বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যাবস্থার অংশ
৩ বিরোধীদলগুলোকে  দমন ও নিপীড়ন 
৩.আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে।।
এসব বিষয় বারবার আলোচিত হয়েছে রাজনৈতিক পটভূমিতে।এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রাজনৈতিক আস্থার সংকট পুরোমাত্রায় কাটেনি আমাদের থেকে—বরং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা না থাকার কারণে তা আরও বেড়েছে বহুগুণে 
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কি পুনুর্জীবনের দাবি রাখে?
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের মনে  প্রশ্ন উঠতে পারে—যদি আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, তবে তা কি পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব জনগণের স্বার্থে?
হ্যাঁ—সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যেকোনো ব্যবস্থাই পুনরায় যুক্ত করা সম্ভব  যদি তা জনগণের ঐকান্তিক  ইচ্ছা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়। আদালত তখন সংসদের নীতিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে—এটাই সাংবিধানিক প্রথা ও কাঠামো।For the development of the democratic policy everything will fair ensuring the people’s rights and mandate as people are the sole basis of constitutional democracy. Here democracy will only follow the path of constitution making unique and convenient Policy for people. 
আইনের শাসনের মূলনীতি ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা
যতদিন রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে পূর্ণ আস্থা তৈরি না হবে, উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ না থাকবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবমুক্ত না হবে, ততদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন,জবাবদিহিতামূলক নির্বাচনে  একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হয়ে থাকবে।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আইনগত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব।যার সূত্রপাত হয়েছিল Keshavananda Bharati vs State of Kerala এই কেসের মাধ্যমে। ১৯৮৯ সালের আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ মামলায় মহামান্য আপিল বিভাগ প্রথমবারের মতো মৌলিক কাঠামো তত্ত্বকে স্বীকৃতি দেয় এবং সংবিধানে বাস্তবায়ন করে। আদালত ডিসেন্টীং অপিনিয়নে বলেন সংবিধানের কিছু মৌলিক উপাদান রয়েছে যেগুলো কোনো সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায় না অর্থাৎ সংবিধানের কিছু অংশ অপরিবর্তনীয় । এই মৌলিক কাঠামোর মধ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মৌলিক নীতি,নির্বাহী–বিধান–বিচার বিভাগের ভারসাম্য, নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার ও নির্বাচিত সরকারের ধারণা অন্তর্ভুক্ত।২০১১ সালের Abdul Mannan Khan v. Bangladesh মামলায় হাইকোর্ট এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে রায় দেন যে নির্বাচিত সরকারের পরিবর্তে অ–নির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা হস্তান্তর সাংবিধানিকভাবে চেক এন্ড ব্যালেন্স নীতিকে বৃদ্ধাংগুলি দেখায় । কারণ সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে জনগণের ঐকান্তিক  সার্বভৌমত্বের কথা বলা হয়েছে যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় অর্থাৎ জনগনের অংশীজন সরকার কিন্ত তত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থাকে  একটি অ–নির্বাচিত নির্বাহী ব্যবস্থাকে সংসদীয় গণতন্ত্রের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন মহামান্য  আদালত।তবে এখানে একটি একাডেমিক বিষয় হলো—আদালত এখন পর্যন্ত  তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা জনগণের অধিকার বা আইনের শাসনের সম্পূর্ণ  পরিপন্থী এমন কথা কোথাও  বলেননি। বরং আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে,ম  বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় পরবর্তী দুইটি নির্বাচন আগের ব্যবস্থায় করাই স্থিতিশীলতার জন্য উত্তম হবে। অর্থাৎ আদালত সাংবিধানিক আদর্শের সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক প্রয়োজনের ভারসাম্য রাখতে চেয়েছেন কিন্ত কোন কোন রাজনৈতিক দল তাকে বাতিল করেই দিয়েছে তাদের বক্তব্যে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আইনগত বৈধতা নিরুপণ ও মূল্যায়ন করতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে নির্বাহী ক্ষমতার বৈধ প্রয়োগ (Legitimacy of Executive Authority) সংক্রান্ত প্রশ্ন।বাংলাদেশ  সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা—অর্থাৎ একটি নির্বাচিত সরকার যারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতা অ–নির্বাচিত প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাগণের হাতে হস্তান্তর হওয়ায় আদালত এটিকে Basic structure বা মৌলিক কাঠামোর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন। তবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনিক আইনের নীতি—Necessity Doctrine যা পাকিস্তানের বিচারপতি মনির কর্তৃক সংযোজন করা হয়েছিল—এর ভিত্তিতে যুক্তি দাঁড়ায় যে, তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, অচলাব্যবস্থা, অবিশ্বাস,রাজনৈতিক মতানৈক্য  ও সহিংস পরিস্থিতিতে একটি অবাধ  “অস্থায়ী, নিরপেক্ষ,কার্যকরী  এবং সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন” নির্বাহী ব্যবস্থা জনগণের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা এবং নির্বাচনকে অবাধ রাখার জন্য প্রয়োজন হতে পারে অর্থাৎ তার মূল উদ্দেশ্য জনগণের ক্ষমতাকে তার হতেই পৌঁছে দেয়া। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জনগণই সকল ক্ষমতার  উৎস। নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, ভোট ডাকাতি হয়,ভোটাধিকার যদি মুখ থুবড়ে পড়ে, এবং রাষ্ট্রযন্ত্র যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত না থাকে—তাহলে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কারণে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছিল একপ্রকার “সাংবিধানিক নিরাপত্তা–ব্যবস্থা” (Constitutional Safeguard) Which is much more convenient, useful,impactful and dedicated temporary method of free fair and acceptable method of modern democracy.  constitutional practice এ দেখা যায়—ভারতে নির্বাচনকালীন সময় Election Commission of India সম্পূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণ করে (Model Code of Conduct during election ), পাকিস্তানে caretaker ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে নির্বাচনী প্রশাসন যথেষ্ট শক্তিশালী। বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৮–১২৬ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলেও বাস্তবে কমিশন প্রশাসন বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের প্রতি ডিপ্রন্ডেন্ড যেমন  পুলিশ,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও  মাঠপর্যায়ের আমলাতন্ত্রের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারে না। তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো এই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করত যা rule of law-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেছিল।অতএব আইনগত বিশ্বেষণ এর আলোকে বলা যায়—তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা মৌলিক কাঠামোর সাথে সরাসরি Contradict  না হলেও এটি ছিল রাজনৈতিক আস্থাহীনতা ও নির্বাচনী দুর্বলতা মোকাবিলার একটি ব্যতিক্রমী সমাধান যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।Despite criticism we need an unified election method for saving our rights,peoples will and make a way to establish the rule of law whether the government exercise its vigilant power beyond political, social and colorable exercise of power

লেখস্বত্ব
ইসলাম ফাইজুল
লেকচারার 
আইন বিভাগ, প্রাইম ইউনিভার্সিটি

Nessun commento trovato


News Card Generator