অসুস্থ কর্মীদের ঘরে আশার প্রদীপ জ্বালালেন বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

অসুস্থ কর্মীদের ঘরে আশার প্রদীপ জ্বালালেন বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু..

Rakibul Islam avatar   
Rakibul Islam
অসুস্থ কর্মীদের ঘরে আশার প্রদীপ জ্বালালেন বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু..
অসুস্থ কর্মীদের ঘরে আশার প্রদীপ জ্বালালেন বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু..
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাতে গিয়ে হঠাৎ দলীয় কর্মীদের অসুস্থতার খবর শুনে বাচ্চুর সিদ্ধান্ত বদলে যায়।..

সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে কলোনী—এক সময় কর্মচঞ্চল মানুষের ভিড়ে মুখরিত এই মহল্লাটি এখন নীরবতার ভেতর লুকিয়ে রেখেছে চারটি পরিবারে অপ্রকাশিত কষ্টের গল্প। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কর্মহীনতা ও দারিদ্র্যে জর্জরিত এই চারটি পরিবার যেন প্রতিদিনই লড়াই করছে জীবনের সঙ্গে। আর এই নিস্তব্ধতার মধ্যেই শনিবার বিকেলে এক অন্যরকম দৃশ্যের জন্ম হলো—এসে দাঁড়ালেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাতে গিয়ে হঠাৎ দলীয় কর্মীদের অসুস্থতার খবর শুনে বাচ্চুর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। সঙ্গীসাথীদের নিয়ে ছুটে যান রেলওয়ে কলোনীর সেই বাড়িগুলোতে। ঘরে ঢুকতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অসুস্থ কর্মীরা। অনেকেরই চোখের কোণে জমে ওঠে দীর্ঘদিনের কষ্ট, ব্যথা আর বঞ্চনার অশ্রুবিন্দু।

প্রথমেই দেখা মিলল জাকির হোসেন প্রদীপের। পা ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী তিনি। এক সময় সক্রিয় দলীয় কর্মী ছিলেন, মহল্লার বিভিন্ন সামাজিক কাজে ছিলেন এগিয়ে। এখন বিছানাই তাঁর একমাত্র পৃথিবী।

তার পাশেই আরেক কর্মী মনিরুজ্জামান মনি। একইভাবে পা ভাঙার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে দিনদিন অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে করুণ অবস্থায় আছেন মুন্না—পায়ের ঘা ছড়িয়ে পড়েছে এমনভাবে যে চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিবারটি দারিদ্র্যের কাছে নতজানু; অপারেশনের খরচ জোগাড় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব।

আরেক কর্মী আব্দুল সেখ, বয়সজনিত নানা রোগে ভুগছেন। ধীরে ধীরে তিনি হাঁটা–চলা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছেন। আশপাশের মানুষের সহায়তা ছাড়া সাধারণ চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

অসুস্থ কর্মীদের শয্যার পাশে বসে তাদের হাত ধরে কথা বলতে বলতে বাচ্চু বলেন, “বিএনপি এখন ক্ষমতায় নেই—তাই মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। কিন্তু তবুও আমি মনে করি, ক্ষমতায় না থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি। যদি আমরা ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাই, তবে নির্যাতিত ও পঙ্গুত্ববরণকারী সব নেতাকর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেন এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

প্রদীপের মা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন, “বাপ, আমার ছেলের চিকিৎসা করতে করতে ঘরখানাই শেষ হয়ে গেছে। আজ এতদিন পর একটা নেতা আমাদের খোঁজ নিলেন—এইটাও বড় পাওয়া।”

মুন্নার স্ত্রী বলেন, “ডাক্তারেরা বলছেন পা কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু টাকা নেই। কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

এই সহায়তা হয়তো সব সমস্যার সমাধান নয়, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত আর হতাশ মানুষের হৃদয়ে একটু আশার আলো জ্বালিয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিযোগ–বিক্ষোভের ভিড়ে মানবিক উদ্যোগগুলো প্রায়ই হারিয়ে যায়। কিন্তু বাচ্চুর এই উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কারণ এখানে নেই বড় কোনো ঘোষণার শোরগোল; আছে শুধু মানুষের কষ্ট বোঝার চেষ্টা—একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরাও এই সফরে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, অসুস্থ কর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সম্পৃক্ততা এবং অবদান রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator