চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর ২০২৫) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুন্নাহার।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনবিহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছিল বেশ কয়েকটি ইটভাটা। এসব ইটভাটায় যথাযথ পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকা, পরিবেশদূষণ, কয়লা–মাটি অনুমোদন ছাড়াই ব্যবহারসহ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)–এর একাধিক ধারা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এরই প্রেক্ষিতে আজ দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন ইটভাটা
১. মেসার্স খাজা ম্যানু রিসোর্স ব্রিকস (KMR)
ঠিকানা: বানিয়াখোলা, বেতাগী, রাঙ্গুনিয়া
মালিক: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
অভিযোগ: পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই ইট উৎপাদন, পরিবেশদূষণ ও আইন লঙ্ঘন
দণ্ড: ইটভাটাটির চিমনি ও কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া
২. মেসার্স কেবিএম ব্রিকস (KBM)
ঠিকানা: বানিয়াখোলা, বেতাগী, রাঙ্গুনিয়া
মালিক: মো. আজিজুর রহমান
অভিযোগ: পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন, অবৈধ নির্মাণ ও অননুমোদিত উৎপাদন
দণ্ড: চিমনি ও কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া
৩. মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (SAB)
ঠিকানা: মোহাম্মদপুর, সোনারঙাও, রাঙ্গুনিয়া
মালিক: মো. ইউনুচ কোম্পানি
অভিযোগ: ইটভাটা আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন
দণ্ড: চিমনি ও কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া
মোবাইল কোর্টের নির্দেশে প্রতিটি ইটভাটার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে কারা ছিলেন
দিনব্যাপী এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন—
মোঃ মোজাহিদুর রহমান, উপপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা
মোঃ আশরাফ উদ্দিন, রিসার্চ অফিসার
চন্দন বিশ্বাস, পরিদর্শক
এছাড়াও নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন—
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গুনিয়া ক্যাম্প
র্যাব–০৭ চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম আনসার সদর দপ্তরের সদস্যরা
রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাঙ্গুনিয়া স্টেশন
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
অভিযানের সময় স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ইটভাটার কারণে এলাকায় ধুলো–ধোঁয়া, কৃষিজমির ক্ষতি ও পরিবেশদূষণ বাড়ছিল। অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থান
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, অনুমোদনবিহীন ইটভাটা বন্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পরিবেশদূষণ করে এমন কোনো ইটভাটা চালু রাখতে দেওয়া হবে না।